Thursday, November 12, 2015

Amin's story is a residential hotel in Toronto

Amin's story is a residential hotel in Toronto

When I arrived at the hotel in Toronto, the city of Sylhet Divisional Road Taltala five in the afternoon.
November is fast approaching noon hour in the evening.
Toronto residential hotel for the night lunch counter was chosen to lead.
From here, go to the office of the commissioner in Alampur facilities and hotel in the city.
The next morning I had to be part of the divisional commissioner's office in the case of DP.
However, entered the courtyard of the hotel with two bags.
Counter-desk manager was missing.
I saw a young boy sitting on the couch watching cartoons on television.
I said I'd like a single room.

The allocations for the four-floor room.
V I P room, the boy said.
Hire two hundred taka.
However, difficulties arise was downstairs with two bags,
At the time, he said, uncle give me a bag.
Somewhat comfortable with a bag in his hand, looked to move the stairs.

Addressing his uncle seemed sincere and
  Nowadays, more and more people are using to call uncle.
People today rickshaw man was called uncle .
His father, uncle addressed to the rickshaw man uncle .
I do not know why that rickshaw man everyone calls uncle.
Maybe people against discrimination in society is to inform sincerity uncle addressed.
Entered the hotel room, VIP room and could not see any signs.
The night lunch counter reasonably Living room.
After arriving in the room, he asked for the money to twenty.
I gave him ten taka.
Then he said,
- "Uncle, if you tell me to bring tea for breakfast or snacks.
Do not be bothered to get off the ground floor, sitting room, you can eat. "
I said, - "I do not need any food.
I want to drink water.
Why would you want to bring the food? "
- "The manager of the hotel brought our food to be found in two of the four money tip.
I hope this tip some of the money to the people of the hotel food. "- He said.
He gave water to drink.
He said, if necessary, may pressure the calling bell.
He took away.

Nine o'clock at night, when he came to visit me again.
Wanted to know whether there is anything my needs.
He took money from me and gave it burns them to the store and buy a mosquito coil.
Do not mess up my sleep, so mosquitoes are biting.
Because the room had no masari.

At that time, there was no other job I want to find out something about him.
I asked, "What is your name?"
The boy said, "Amen."
- "How old?"
- "Sixteen years."
- "How much do you pay?"
- "Three thousand rupees per month, uncle."
- "What do you do with the money, three thousand?"
- "Two thousand two hundred rupees per month to the cost of feed."
Amin stopped here a little.

I ask again, -
- "What do the rest of the eight hundred money?"
- "Eight hundred taka give  to parents."
At this stage, I think the sympathy and interest of the amin.
I think the trouble is, like a lot of the hard life of the boy.

I thought, Amin child or young?
The United Nations Convention on the Rights of the Child under 18 years old human child, the child said.
The National Child Policy under 14-year-old girl child is a boy.
  On the other hand the law clearly says that the majority, 18 years of age to adulthood.

Sixteen-year-old Amin's now time to study, time to dream, smile, happy time.
  But she has been working at the hotel for two meals, living.
This seemed to think, has a lot of sacrifice to achieve the independence of Bangladesh,
What are the advantages of the freedom, rights of children discriminated against in this country?

To study in schools and colleges for boys ages Amin
  Or the job was to be the best available.
The hotel did not have to work just to eat.
Perhaps the boys today, Amin's father, uncle or grandfather gave life to the fight for independence in the hope of a better life.
At the beginning of the life of an independent country that is suffering pain painful scene to fight to live.
Who is responsible for this situation?
I do not know.

I asked Amin, - "What is your father's name?"
-, "Mansoor Ahmed's fathers name." He says.
Such talk was known, Companiganj his house.
Kulasuma her mother's name.
Amin also has three brothers.
Is that they are brothers, Shaheen two years of age, eight-year-old Tfael, Hasan 13 years old.
Amin is the biggest, he was up to three classes.
Despite Amin's instructions not to fall off the family's financial solvency.
He said.

Mansur Uddin Amin's father has nut small business in Companiganj.
Mansur Uddin average monthly income of ten thousand.
He did not work at six.
The business capital of the responsibility to protect.
Veet's house, no land than fifteen percent of their acres.
This is due to the work of the Boy amanake Toronto hotel.

Amin's father in Mansur Uddin suparira small business.
Mansur Uddin average monthly income of ten thousand.
Six members of the family to bear the cost of ten thousand takas to trouble.
The business capital of the responsibility to protect.
Fifteen decimal house, but do not have any land.
Amin Toronto hotel boy's work is less due to their wealth.

He pointed out that,

  Boy's work at the hotel in less mony.
This Toronto hotel does not serve.
He will work Bholajanj stone mines.
Now, sixteen years of age according to the laws of the country will be able to work in the mines.

So much money goes to Amin Bholajanj stone quarry.
There are to be four to five hundred rupees daily, he said.
Bholajanj stone quarry, to the riverbed stones are harvested by machine.
He brought the stone basket is burdened with.
Which is very hard work.
Did Amin work this hard work?
Maybe.
The survival of such doom Look Amin of working life.
 Amin, who, like the millions of children unfortunate teenager.
Although the match of their lives thanks to the liberation of the country.
There are many good laws to protect the rights of children in Bangladesh.
There are labor laws.
But the law can not protect the rights of children?
No!
This is the proof-
Amin's story is a residential hotel in Toronto...
Bangla

আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা

বিভাগীয় শহর সিলেটের তালতলা রোডের হোটেল টরেন্টোতে যখন পৌঁছলাম তখন বিকাল পাঁচটা।
নভেম্বরের বিকাল পাঁচটায় সন্ধ্যা সমাগত হয়ে যায় দ্রুত।
রাত্রী যাপনের জন্য টরেন্টো আবাসিক হোটেল বেছে নেয়া ।
কারণ এখান থেকে আলমপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসে যেতে সুবিধা হবে এবং হোটেলটা শহরের মধ্যে।
আমার দরকারটা হলো পরদিন সকালে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ডিপি মামলায় শুনানানীতে অংশ গ্রহণ করা ।

যাই হোক দুটি ব্যাগ দিয়ে হোটেল আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম।
কাউন্টার ডেস্কে দেখলাম ম্যানাজার নেই ।
দেখলাম সোফায় বসে একটি কিশোর ছেলে টেলিভিশনে কার্টুন দেখছিল।
বললাম আমার একটি সিঙ্গেল  রুম চাই।

রুম বরাদ্ধ হলো চার তলায়।
ছেলেটি বললো ভি আইপি রুম।
ভাড়া দুইশত টাকা।
যাহোক দুইটি ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠা অসুবিধা হচ্ছিল,
সে সময় ছেলেটি বললো মামা আমাকে একটা ব্যাগ দিন।
ছেলেটিকে একটি ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে কিছুটা সাচ্ছন্দ পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে এগুতে লাগলাম।
ছেলেটির এই মামা ডাকটা আন্তরিক বলে মনে হলো এবং
 আজকাল লোকজন মামা ডাকটা বেশী বেশী ব্যবহার করেন।
রিক্সা ওয়ালাকেও আজকালকার লোকজন মামা বলে সম্বোধন করেন।
ছেলের বাবাও একই রিক্সা ওয়ালাকে মামা সম্বোধন করেন।
কেন যে রিক্সাওয়ালাকে সবাই মামা সম্বোধন করেন জানিনা আমি।
হয়তো লোকজন সমাজের বৈষম্যের শিকার লোকদের প্রতি আন্তরিকতা জানানোর জন্য মামা সম্বোধন করেন।

হোটেল রুমে প্রবেশ করে ভি আই পি রুমের কোন লক্ষণ দেখতে পেলাম না।
তবে রাত্রী যাপনের জন্য রুমটি খাড়াপ না।
রুমে পৌঁছে দেবার পর ছেলেটি বিশ টাকা চাইল।
তাকে দশ টাকা দিলাম।
ছেলেটি তখন বলল,
-“মামা আপনার যদি চা নাস্তা বা খাবার এনে দিতে হয় তবে আমাকে জানাবেন।
আপনাকে কষ্ট করে নীচে নামতে হবে না,রুমে বসেই খেতে পারবেন।”
আমি বললাম,-“আমার এখন কোন খাবারের প্রয়োজন নেই ।আমি পানি পান করতে চাই।
আর তুমি কেন কষ্ট করে খাবার এনে দিতে চাও?”
-“হোটেল থেকে খাবার এনে দিলে হোটেল ম্যানেজার হতে দুই চার টাকা বকশিশ পাই।
এজন্য হোটেল বোর্ডারদের খাবার এনে দেই।”-উত্তরে বলল ছেলেটি।

সে খাবার পানি এনে দিল।
প্রয়োজন হলে কলিং বেল টিপার কথা বলে  বিদায় নিল।
রাতে নয়টার সময় সে আবার আমার খোঁজ নিতে আসল।
জানতে চাইল কোন কিছুর পয়োজন আছে কি না।
ছেলেটি আমার কাছ থেকে টাকা নিল আর দোকান থেকে একটি মশার কয়েল কিনে এনে জ্বালিয়ে দিল।
যাতে মশার কামড়ে আমার ঘুমের কোন ব্যাঘাত না হয়।
কারণ রুমে কোন মশাড়ী ছিল না।

সে সময় আমার অন্য কোন কাজ ছিল না ভাবলাম ছেলেটির ব্যাপারে কিছু খোঁজ নেয়া হোক।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম,“তোমার নাম কি ?”
ছেলেটি বললো,“আমিন।”
-“বয়স কতো?”
-“ষোল বছর।”
-“কতো বেতন পাও?”
-“প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা মামা।”
-“তিন হাজার টাকা দিয়ে কি কর?”
-“প্রতি মাসে দুই হাজার দুইশত টাকা খাবার খাওয়াতে খরচ হয়।”
আমিন এখানে একটু থামলো।
আবার জিঞ্জাসা করলাম,-
-“অবশিষ্ট আটশত টাকা কি কর?”
-“আটশত টাকা বাবা মাকে দেই ।”
এই পর্যায়ে এসে আমিনে প্রতি আমার মনে সহানুভূতি ও আগ্রহ হলো ।
এই ভেবে কষ্ট পেলাম যে, তার মতো কষ্টের জীবন বাংলাদেশের অনেক লক্ষ শিশুর।
ভাবলাম, আমিন শিশু নাকি অল্প বয়সী ?
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী  মানব সন্তানকে শিশু বলা হয়েছে ।
বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ১৪ বছরের নীচে যে কোন বালক-বালিকাকে শিশু বলছে ।
 অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রচলিত সাবালকত্ব আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাবালকত্বের বয়স শুরু হবে ১৮ বছর থেকে ।
 এই সংজ্ঞা দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশ, জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ''শিশু এবং অল্পবয়সী'' শব্দটি ব্যবহার করছে ।
অন্য দিকে নিম্নতম মজুরী আইনে ১৮ বছর পূর্ণ না হলে সে শিশু হিসেবে গণ্য হয় ।
অতএব,আমিন শিশু, অথবা তার বেতন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বাংলাদেশে।
কিন্তু শিশুদের অধিকারের সুষ্ঠ সামাধান হয় না কখনো।

ষোল বছর বয়সের আমিনের এখন অধ্যায়ন করার সময়,স্বপ্ন দেখার সময়,হাসি খুশীর সময়।
 কিন্তু সে হোটেলে কাজ করছে দুবেলা খাবার জন্য, জীবন ধারণের জন্য।
একথা ভাবতেই মনে হলো, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে ,
সে স্বাধীনতার কি সুফল পাচ্ছে,আজকের বাংলাদেশের বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত শিশুরা ?
কারণ আমিনের বয়সের ছেলেদের স্কুল  কলেজে অধ্যায়ন করা অথবা কাজের ভাল মুজুরী পাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল।
শুধু খাবার খাওয়ার জন্য হোটেলে কাজ করার কথা ছিল না।
এমনও হতে পারে আজকের আমিন মতো ছেলেদের বাবা ,চাচা অথবা দাদা দেশের সূখী জীবনের প্রত্যাশায় স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন।
একটি স্বাধীন দেশে জীবনের শুরুতে এমন কষ্টের কাজ করে জীবন ধারণ করার সংগ্রাম করার দৃশ্য  পীড়া দায়ক।
এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ?
জানি না আমি।

আমি আমিনকে জিজ্ঞাসা করলাম,-“তোমার বাবার নাম কি?”
-,“বাবার নাম মনসুর উদ্দিন।”জানাল সে।
এরূপ আলাপ চারিতায় জানা গেল,তার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ।
মার নাম কুলসুমা বেগম।
আমিনের আরো তিন ভাই আছে।
ভাই গুলো হল-,শাহীন বয়স দুই বছর,তোফায়েল বয়স আট বছর ও হাসান বয়স ১৩ বছর।
আমিন সবচেয়ে বড়, সে পড়েছিল ক্লাস  থ্রি পর্যন্ত।

আমিনের পড়ালেখা করার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার জন্য  পড়া বন্ধ হয়ে যায়।বলল সে।

আমিনের বাবা মুনসুর উদ্দীন পান সুপারীর ছোট ব্যবসা করেন।
মুনসুর উদ্দীনের মাসিক আয় গড়ে দশ হাজার টাকা।
সে টাকায় ছয় জনের সংসার চলে না।
এর মধ্যে ব্যবসার পুঞ্জি বাঁচানো দায়।
দশমিক পনের একর বাড়ীর ভিট ছাড়া আর কোন জমি নেই তাদের।
এই কারণে আমনকে টরেন্টো হোটেল বয় এর কাজ করতে হয় হয়।

সে আরো জানালো যে, হোটেলে বয় এর কাজ এ বেতন কম।
 এই টরেন্টো হোটেলের চাকুরী করবে না।
সে ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে কাজ করবে।
কারণ তার বয়স এখন ষোল বছর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী খনিতে কাজ করতে পারবে।
তাই বেশী টাকা আয়ের  জন্য ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে চলে যাবে আমিন।
সেখানে দৈনিক চারশত হতে পাঁচশত টাকা পাবে সে।
ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে,নদীর তলদেশ  হতে মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়।
সে পাথর টুকরি ভরে মাথায় বহন করে উপরে এনে জড়ো করতে হয় ।
যা খুব কঠিন পরিশ্রমের কাজ।
এই কঠিন পরিশ্রমের কাজ পারবে কি আমিন?
হয়তো পারবে।
কারণ বাংলাদেশে বেঁচে থাকার  জন্য এরকম পরিশ্রমী জীবন লক্ষ আমিনের ভাগ্যের নিয়তি।

বাংলাদেশে এমন লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর ভাগ্য বিড়ম্বিত।
দেশ স্বাধীন হলেও তাদের জীবনে সৌভাগ্য দেখা মিলেনি।
শিশু অধিকার রক্ষার জন্য অনেক ভাল আইন আছে বাংলাদেশে।
শ্রম আইনও রয়েছে।
কিন্তু সে আইন গুলো কি  শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে পারছে?

মনে হয় না।
কারণ তা উদাহরণ এই-
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা..
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা
বিভাগীয় শহর সিলেটের তালতলা রোডের হোটেল টরেন্টোতে যখন পৌঁছলাম তখন বিকাল পাঁচটা।
নভেম্বরের বিকাল পাঁচটায় সন্ধ্যা সমাগত হয়ে যায়।
রাত্রী যাপনের জন্য টরেন্টো আবাসিক হোটেল বেছে নেয়া ।
কারণ এখান থেকে আলমপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসে যেতে সুবিধা হবে এবং হোটেলটা শহরের মধ্যে।
আমার দরকারটা হলো পরদিন সকালে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ডিপি মামলায় শুনানানীতে অংশ নেয়া।

যাই হোক দুটি ব্যাগ দিয়ে হোটেল আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম।
কাউন্টার ডেস্কে দেখলাম ম্যানাজার নেই ।
দেখলাম সোফায় বসে একটি কিশোর ছেলে টেলিভিশনে কার্টুন দেখছিল।
বললাম আমার একটি সিঙ্গেল  রুম চাই।

রুম বরাদ্ধ হলো চার তলায়।
ছেলেটি বললো ভি আইপি রুম।
ভাড়া দুইশত টাকা।
যাহোক দুইটি ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠা অসুবিধা হচ্ছিল,
সে সময় ছেলেটি বললো মামা আমাকে একটা ব্যাগ দিন।
ছেলেটিকে একটি ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে কিছুটা সাচ্ছন্দ পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে এগুতে লাগলাম।
ছেলেটির এই মামা ডাকটা আন্তরিক বলে মনে হলো এবং
 আজকাল লোকজন মামা ডাকটা বেশী বেশী ব্যবহার করেন।
রিক্সা ওয়ালাকেও আজকালকার লোকজন মামা বলে সম্বোধন করে।
ছেলের বাবাও একই রিক্সা ওয়ালাকে মামা সম্বোধন করে।
কেন যে রিক্সাওয়ালাকে সবাই মামা সম্বোধন করে জানিনা আমি।
হয়তো লোকজন সমাজের বৈষম্যের শিকার লোকদের প্রতি আন্তরিকতা জানানোর জন্য মামা সম্বোধন করে।

হোটেল রুমে প্রবেশ করে ভি আই পি রুমের কোন লক্ষণ দেখতে পেলাম না।
তবে রাত্রী যাপনের জন্য রুমটি খাড়াপ না।
রুমে পৌঁছে দেবার পর ছেলেটি বিশ টাকা চাইল।
তাকে দশ টাকা দিলাম।
সে খাবার পানি এনে দিল।
প্রয়োজন হলে কলিং বেল টিপার কথা বলে  বিদায় নিল।
রাতে নয়টার সময় সে আবার আমার খোঁজ নিতে আসল।
জানতে চাইল কোন কিছুর পয়োজন আছে কি না।
ছেলেটি আমার কাছ থেকে টাকা নিল আর দোকান থেকে একটি মশার কয়েল কিনে এনে জ্বালিয়ে দিল।
যাতে মশার কামড়ে আমার ঘুমের কোন ব্যাঘাত না হয়।
কারণ রুমে কোন মশাড়ী ছিল না।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম,“তোমার নাম কি ?”
ছেলেটি বললো,“আমিন।”
-“বয়স কতো?”
-“ষোল বছর।”
-“কতো বেতন পাও?”
-“প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা মামা।”
-“তিন হাজার টাকা দিয়ে কি কর?”
-“প্রতি মাসে দুই হাজার দুইশত টাকা খাবার খাওয়াতে খরচ হয়।”
আমিন এখানে একটু থামলো।
আবার জিঞ্জাসা করলাম,-
-“অবশিষ্ট আটশত টাকা কি কর?”
-“আটশত টাকা বাবা মাকে দেই ।”
এই পর্যায়ে এসে আমিনে প্রতি আমার মনে সহানুভূতি ও আগ্রহ হলো ।
এই ভেবে কষ্ট পেলাম যে, তার মতো কষ্টের জীবন বাংলাদেশের অনেক লক্ষ শিশুর।
ভাবলাম, আমিন শিশু নাকি অল্প বয়সী ?
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী  মানব সন্তানকে শিশু বলা হয়েছে ।
বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ১৪ বছরের নীচে যে কোন বালক-বালিকাকে শিশু বলছে ।
 অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রচলিত সাবালকত্ব আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাবালকত্বের বয়স শুরু হবে ১৮ বছর থেকে ।
 এই সংজ্ঞা দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশ, জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ''শিশু এবং অল্পবয়সী'' শব্দটি ব্যবহার করছে ।
অন্য দিকে নিম্নতম মজুরী আইনে ১৮ বছর পূর্ণ না হলে সে শিশু হিসেবে গণ্য হয় ।
অতএব,আমিন শিশু, অথবা তার বেতন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বাংলাদেশে।
কিন্তু শিশুদের অধিকারের সুষ্ঠ সামাধান হয় না কখনো।

ষোল বছর বয়সের আমিনের এখন অধ্যায়ন করার সময়,স্বপ্ন দেখার সময়,হাসি খুশীর সময়।
 কিন্তু সে হোটেলে কাজ করছে দুবেলা খাবার জন্য, জীবন ধারণের জন্য।
একথা ভাবতেই মনে হলো, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে ,
সে স্বাধীনতার কি সুফল পাচ্ছে,আজকের বাংলাদেশের বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত শিশুরা ?
কারণ আমিনের বয়সের ছেলেদের স্কুল  কলেজে অধ্যায়ন করা অথবা কাজের ভাল মুজুরী পাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল।
শুধু খাবার খাওয়ার জন্য হোটেলে কাজ করার কথা ছিল না।
এমনও হতে পারে আজকের আমিন মতো ছেলেদের বাবা ,চাচা অথবা দাদা দেশের সূখী জীবনের প্রত্যাশায় স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন।
একটি স্বাধীন দেশে জীবনের শুরুতে এমন কষ্টের কাজ করে জীবন ধারণ করার সংগ্রাম করার দৃশ্য  পীড়া দায়ক।
এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ?
জানি না আমি।

আমি আমিনকে জিজ্ঞাসা করলাম,-“তোমার বাবার নাম কি?”
-,“বাবার নাম মনসুর উদ্দিন।”জানাল সে।
এরূপ আলাপ চারিতায় জানা গেল,তার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ।
মার নাম কুলসুমা বেগম।
আমিনের আরো তিন ভাই আছে।
ভাই গুলো হল-,শাহীন বয়স দুই বছর,তোফায়েল বয়স আট বছর ও হাসান বয়স ১৩ বছর।
আমিন সবচেয়ে বড়, সে পড়েছিল ক্লাস  থ্রি পর্যন্ত।

আমিনের পড়ালেখা করার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার জন্য  পড়া বন্ধ হয়ে যায়।বলল সে।

আমিনের বাবা মুনসুর উদ্দীন পান সুপারীর ছোট ব্যবসা করেন।
মুনসুর উদ্দীনের মাসিক আয় গড়ে দশ হাজার টাকা।
সে টাকায় ছয় জনের সংসার চলে না।
এর মধ্যে ব্যবসার পুঞ্জি বাঁচানো দায়।
দশমিক পনের একর বাড়ীর ভিট ছাড়া আর কোন জমি নেই তাদের।
এই কারণে আমনকে টরেন্টো হোটেল বয় এর কাজ করতে হয় হয়।

সে আরো জানালো যে, হোটেলে বয় এর কাজ এ বেতন কম।
 এই টরেন্টো হোটেলের চাকুরী করবে না।
সে ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে কাজ করবে।
কারণ তার বয়স এখন ষোল বছর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী খনিতে কাজ করতে পারবে।
তাই বেশী টাকা আয়ের  জন্য ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে চলে যাবে আমিন।
সেখানে দৈনিক চারশত হতে পাঁচশত টাকা পাবে সে।
ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে,নদীর তলদেশ  হতে মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়।
সে পাথর টুকরি ভরে মাথায় বহন করে উপরে এনে জড়ো করতে হয় ।
যা খুব কঠিন পরিশ্রমের কাজ।
এই কঠিন পরিশ্রমের কাজ পারবে কি আমিন?
হয়তো পারবে।
কারণ বাংলাদেশে বেঁচে থাকার  জন্য এরকম পরিশ্রমী জীবন লক্ষ আমিনের ভাগ্যের নিয়তি।

বাংলাদেশে এমন লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর ভাগ্য বিড়ম্বিত।
দেশ স্বাধীন হলেও তাদের জীবনে সৌভাগ্য দেখা মিলেনি।
শিশু অধিকার রক্ষার জন্য অনেক ভাল আইন আছে বাংলাদেশে।
শ্রম আইনও রয়েছে।
কিন্তু সে আইন গুলো কি  শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে পারছে?
মনে হয় না।
কারণ তা উদাহরণ এই-
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা..

Thursday, November 12, 2015

Amin's story is a residential hotel in Toronto

Amin's story is a residential hotel in Toronto

When I arrived at the hotel in Toronto, the city of Sylhet Divisional Road Taltala five in the afternoon.
November is fast approaching noon hour in the evening.
Toronto residential hotel for the night lunch counter was chosen to lead.
From here, go to the office of the commissioner in Alampur facilities and hotel in the city.
The next morning I had to be part of the divisional commissioner's office in the case of DP.
However, entered the courtyard of the hotel with two bags.
Counter-desk manager was missing.
I saw a young boy sitting on the couch watching cartoons on television.
I said I'd like a single room.

The allocations for the four-floor room.
V I P room, the boy said.
Hire two hundred taka.
However, difficulties arise was downstairs with two bags,
At the time, he said, uncle give me a bag.
Somewhat comfortable with a bag in his hand, looked to move the stairs.

Addressing his uncle seemed sincere and
  Nowadays, more and more people are using to call uncle.
People today rickshaw man was called uncle .
His father, uncle addressed to the rickshaw man uncle .
I do not know why that rickshaw man everyone calls uncle.
Maybe people against discrimination in society is to inform sincerity uncle addressed.
Entered the hotel room, VIP room and could not see any signs.
The night lunch counter reasonably Living room.
After arriving in the room, he asked for the money to twenty.
I gave him ten taka.
Then he said,
- "Uncle, if you tell me to bring tea for breakfast or snacks.
Do not be bothered to get off the ground floor, sitting room, you can eat. "
I said, - "I do not need any food.
I want to drink water.
Why would you want to bring the food? "
- "The manager of the hotel brought our food to be found in two of the four money tip.
I hope this tip some of the money to the people of the hotel food. "- He said.
He gave water to drink.
He said, if necessary, may pressure the calling bell.
He took away.

Nine o'clock at night, when he came to visit me again.
Wanted to know whether there is anything my needs.
He took money from me and gave it burns them to the store and buy a mosquito coil.
Do not mess up my sleep, so mosquitoes are biting.
Because the room had no masari.

At that time, there was no other job I want to find out something about him.
I asked, "What is your name?"
The boy said, "Amen."
- "How old?"
- "Sixteen years."
- "How much do you pay?"
- "Three thousand rupees per month, uncle."
- "What do you do with the money, three thousand?"
- "Two thousand two hundred rupees per month to the cost of feed."
Amin stopped here a little.

I ask again, -
- "What do the rest of the eight hundred money?"
- "Eight hundred taka give  to parents."
At this stage, I think the sympathy and interest of the amin.
I think the trouble is, like a lot of the hard life of the boy.

I thought, Amin child or young?
The United Nations Convention on the Rights of the Child under 18 years old human child, the child said.
The National Child Policy under 14-year-old girl child is a boy.
  On the other hand the law clearly says that the majority, 18 years of age to adulthood.

Sixteen-year-old Amin's now time to study, time to dream, smile, happy time.
  But she has been working at the hotel for two meals, living.
This seemed to think, has a lot of sacrifice to achieve the independence of Bangladesh,
What are the advantages of the freedom, rights of children discriminated against in this country?

To study in schools and colleges for boys ages Amin
  Or the job was to be the best available.
The hotel did not have to work just to eat.
Perhaps the boys today, Amin's father, uncle or grandfather gave life to the fight for independence in the hope of a better life.
At the beginning of the life of an independent country that is suffering pain painful scene to fight to live.
Who is responsible for this situation?
I do not know.

I asked Amin, - "What is your father's name?"
-, "Mansoor Ahmed's fathers name." He says.
Such talk was known, Companiganj his house.
Kulasuma her mother's name.
Amin also has three brothers.
Is that they are brothers, Shaheen two years of age, eight-year-old Tfael, Hasan 13 years old.
Amin is the biggest, he was up to three classes.
Despite Amin's instructions not to fall off the family's financial solvency.
He said.

Mansur Uddin Amin's father has nut small business in Companiganj.
Mansur Uddin average monthly income of ten thousand.
He did not work at six.
The business capital of the responsibility to protect.
Veet's house, no land than fifteen percent of their acres.
This is due to the work of the Boy amanake Toronto hotel.

Amin's father in Mansur Uddin suparira small business.
Mansur Uddin average monthly income of ten thousand.
Six members of the family to bear the cost of ten thousand takas to trouble.
The business capital of the responsibility to protect.
Fifteen decimal house, but do not have any land.
Amin Toronto hotel boy's work is less due to their wealth.

He pointed out that,

  Boy's work at the hotel in less mony.
This Toronto hotel does not serve.
He will work Bholajanj stone mines.
Now, sixteen years of age according to the laws of the country will be able to work in the mines.

So much money goes to Amin Bholajanj stone quarry.
There are to be four to five hundred rupees daily, he said.
Bholajanj stone quarry, to the riverbed stones are harvested by machine.
He brought the stone basket is burdened with.
Which is very hard work.
Did Amin work this hard work?
Maybe.
The survival of such doom Look Amin of working life.
 Amin, who, like the millions of children unfortunate teenager.
Although the match of their lives thanks to the liberation of the country.
There are many good laws to protect the rights of children in Bangladesh.
There are labor laws.
But the law can not protect the rights of children?
No!
This is the proof-
Amin's story is a residential hotel in Toronto...
Bangla

আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা

বিভাগীয় শহর সিলেটের তালতলা রোডের হোটেল টরেন্টোতে যখন পৌঁছলাম তখন বিকাল পাঁচটা।
নভেম্বরের বিকাল পাঁচটায় সন্ধ্যা সমাগত হয়ে যায় দ্রুত।
রাত্রী যাপনের জন্য টরেন্টো আবাসিক হোটেল বেছে নেয়া ।
কারণ এখান থেকে আলমপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসে যেতে সুবিধা হবে এবং হোটেলটা শহরের মধ্যে।
আমার দরকারটা হলো পরদিন সকালে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ডিপি মামলায় শুনানানীতে অংশ গ্রহণ করা ।

যাই হোক দুটি ব্যাগ দিয়ে হোটেল আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম।
কাউন্টার ডেস্কে দেখলাম ম্যানাজার নেই ।
দেখলাম সোফায় বসে একটি কিশোর ছেলে টেলিভিশনে কার্টুন দেখছিল।
বললাম আমার একটি সিঙ্গেল  রুম চাই।

রুম বরাদ্ধ হলো চার তলায়।
ছেলেটি বললো ভি আইপি রুম।
ভাড়া দুইশত টাকা।
যাহোক দুইটি ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠা অসুবিধা হচ্ছিল,
সে সময় ছেলেটি বললো মামা আমাকে একটা ব্যাগ দিন।
ছেলেটিকে একটি ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে কিছুটা সাচ্ছন্দ পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে এগুতে লাগলাম।
ছেলেটির এই মামা ডাকটা আন্তরিক বলে মনে হলো এবং
 আজকাল লোকজন মামা ডাকটা বেশী বেশী ব্যবহার করেন।
রিক্সা ওয়ালাকেও আজকালকার লোকজন মামা বলে সম্বোধন করেন।
ছেলের বাবাও একই রিক্সা ওয়ালাকে মামা সম্বোধন করেন।
কেন যে রিক্সাওয়ালাকে সবাই মামা সম্বোধন করেন জানিনা আমি।
হয়তো লোকজন সমাজের বৈষম্যের শিকার লোকদের প্রতি আন্তরিকতা জানানোর জন্য মামা সম্বোধন করেন।

হোটেল রুমে প্রবেশ করে ভি আই পি রুমের কোন লক্ষণ দেখতে পেলাম না।
তবে রাত্রী যাপনের জন্য রুমটি খাড়াপ না।
রুমে পৌঁছে দেবার পর ছেলেটি বিশ টাকা চাইল।
তাকে দশ টাকা দিলাম।
ছেলেটি তখন বলল,
-“মামা আপনার যদি চা নাস্তা বা খাবার এনে দিতে হয় তবে আমাকে জানাবেন।
আপনাকে কষ্ট করে নীচে নামতে হবে না,রুমে বসেই খেতে পারবেন।”
আমি বললাম,-“আমার এখন কোন খাবারের প্রয়োজন নেই ।আমি পানি পান করতে চাই।
আর তুমি কেন কষ্ট করে খাবার এনে দিতে চাও?”
-“হোটেল থেকে খাবার এনে দিলে হোটেল ম্যানেজার হতে দুই চার টাকা বকশিশ পাই।
এজন্য হোটেল বোর্ডারদের খাবার এনে দেই।”-উত্তরে বলল ছেলেটি।

সে খাবার পানি এনে দিল।
প্রয়োজন হলে কলিং বেল টিপার কথা বলে  বিদায় নিল।
রাতে নয়টার সময় সে আবার আমার খোঁজ নিতে আসল।
জানতে চাইল কোন কিছুর পয়োজন আছে কি না।
ছেলেটি আমার কাছ থেকে টাকা নিল আর দোকান থেকে একটি মশার কয়েল কিনে এনে জ্বালিয়ে দিল।
যাতে মশার কামড়ে আমার ঘুমের কোন ব্যাঘাত না হয়।
কারণ রুমে কোন মশাড়ী ছিল না।

সে সময় আমার অন্য কোন কাজ ছিল না ভাবলাম ছেলেটির ব্যাপারে কিছু খোঁজ নেয়া হোক।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম,“তোমার নাম কি ?”
ছেলেটি বললো,“আমিন।”
-“বয়স কতো?”
-“ষোল বছর।”
-“কতো বেতন পাও?”
-“প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা মামা।”
-“তিন হাজার টাকা দিয়ে কি কর?”
-“প্রতি মাসে দুই হাজার দুইশত টাকা খাবার খাওয়াতে খরচ হয়।”
আমিন এখানে একটু থামলো।
আবার জিঞ্জাসা করলাম,-
-“অবশিষ্ট আটশত টাকা কি কর?”
-“আটশত টাকা বাবা মাকে দেই ।”
এই পর্যায়ে এসে আমিনে প্রতি আমার মনে সহানুভূতি ও আগ্রহ হলো ।
এই ভেবে কষ্ট পেলাম যে, তার মতো কষ্টের জীবন বাংলাদেশের অনেক লক্ষ শিশুর।
ভাবলাম, আমিন শিশু নাকি অল্প বয়সী ?
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী  মানব সন্তানকে শিশু বলা হয়েছে ।
বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ১৪ বছরের নীচে যে কোন বালক-বালিকাকে শিশু বলছে ।
 অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রচলিত সাবালকত্ব আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাবালকত্বের বয়স শুরু হবে ১৮ বছর থেকে ।
 এই সংজ্ঞা দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশ, জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ''শিশু এবং অল্পবয়সী'' শব্দটি ব্যবহার করছে ।
অন্য দিকে নিম্নতম মজুরী আইনে ১৮ বছর পূর্ণ না হলে সে শিশু হিসেবে গণ্য হয় ।
অতএব,আমিন শিশু, অথবা তার বেতন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বাংলাদেশে।
কিন্তু শিশুদের অধিকারের সুষ্ঠ সামাধান হয় না কখনো।

ষোল বছর বয়সের আমিনের এখন অধ্যায়ন করার সময়,স্বপ্ন দেখার সময়,হাসি খুশীর সময়।
 কিন্তু সে হোটেলে কাজ করছে দুবেলা খাবার জন্য, জীবন ধারণের জন্য।
একথা ভাবতেই মনে হলো, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে ,
সে স্বাধীনতার কি সুফল পাচ্ছে,আজকের বাংলাদেশের বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত শিশুরা ?
কারণ আমিনের বয়সের ছেলেদের স্কুল  কলেজে অধ্যায়ন করা অথবা কাজের ভাল মুজুরী পাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল।
শুধু খাবার খাওয়ার জন্য হোটেলে কাজ করার কথা ছিল না।
এমনও হতে পারে আজকের আমিন মতো ছেলেদের বাবা ,চাচা অথবা দাদা দেশের সূখী জীবনের প্রত্যাশায় স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন।
একটি স্বাধীন দেশে জীবনের শুরুতে এমন কষ্টের কাজ করে জীবন ধারণ করার সংগ্রাম করার দৃশ্য  পীড়া দায়ক।
এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ?
জানি না আমি।

আমি আমিনকে জিজ্ঞাসা করলাম,-“তোমার বাবার নাম কি?”
-,“বাবার নাম মনসুর উদ্দিন।”জানাল সে।
এরূপ আলাপ চারিতায় জানা গেল,তার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ।
মার নাম কুলসুমা বেগম।
আমিনের আরো তিন ভাই আছে।
ভাই গুলো হল-,শাহীন বয়স দুই বছর,তোফায়েল বয়স আট বছর ও হাসান বয়স ১৩ বছর।
আমিন সবচেয়ে বড়, সে পড়েছিল ক্লাস  থ্রি পর্যন্ত।

আমিনের পড়ালেখা করার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার জন্য  পড়া বন্ধ হয়ে যায়।বলল সে।

আমিনের বাবা মুনসুর উদ্দীন পান সুপারীর ছোট ব্যবসা করেন।
মুনসুর উদ্দীনের মাসিক আয় গড়ে দশ হাজার টাকা।
সে টাকায় ছয় জনের সংসার চলে না।
এর মধ্যে ব্যবসার পুঞ্জি বাঁচানো দায়।
দশমিক পনের একর বাড়ীর ভিট ছাড়া আর কোন জমি নেই তাদের।
এই কারণে আমনকে টরেন্টো হোটেল বয় এর কাজ করতে হয় হয়।

সে আরো জানালো যে, হোটেলে বয় এর কাজ এ বেতন কম।
 এই টরেন্টো হোটেলের চাকুরী করবে না।
সে ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে কাজ করবে।
কারণ তার বয়স এখন ষোল বছর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী খনিতে কাজ করতে পারবে।
তাই বেশী টাকা আয়ের  জন্য ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে চলে যাবে আমিন।
সেখানে দৈনিক চারশত হতে পাঁচশত টাকা পাবে সে।
ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে,নদীর তলদেশ  হতে মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়।
সে পাথর টুকরি ভরে মাথায় বহন করে উপরে এনে জড়ো করতে হয় ।
যা খুব কঠিন পরিশ্রমের কাজ।
এই কঠিন পরিশ্রমের কাজ পারবে কি আমিন?
হয়তো পারবে।
কারণ বাংলাদেশে বেঁচে থাকার  জন্য এরকম পরিশ্রমী জীবন লক্ষ আমিনের ভাগ্যের নিয়তি।

বাংলাদেশে এমন লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর ভাগ্য বিড়ম্বিত।
দেশ স্বাধীন হলেও তাদের জীবনে সৌভাগ্য দেখা মিলেনি।
শিশু অধিকার রক্ষার জন্য অনেক ভাল আইন আছে বাংলাদেশে।
শ্রম আইনও রয়েছে।
কিন্তু সে আইন গুলো কি  শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে পারছে?

মনে হয় না।
কারণ তা উদাহরণ এই-
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা..
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা
বিভাগীয় শহর সিলেটের তালতলা রোডের হোটেল টরেন্টোতে যখন পৌঁছলাম তখন বিকাল পাঁচটা।
নভেম্বরের বিকাল পাঁচটায় সন্ধ্যা সমাগত হয়ে যায়।
রাত্রী যাপনের জন্য টরেন্টো আবাসিক হোটেল বেছে নেয়া ।
কারণ এখান থেকে আলমপুর বিভাগীয় কমিশনার অফিসে যেতে সুবিধা হবে এবং হোটেলটা শহরের মধ্যে।
আমার দরকারটা হলো পরদিন সকালে বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে ডিপি মামলায় শুনানানীতে অংশ নেয়া।

যাই হোক দুটি ব্যাগ দিয়ে হোটেল আঙ্গিনায় প্রবেশ করলাম।
কাউন্টার ডেস্কে দেখলাম ম্যানাজার নেই ।
দেখলাম সোফায় বসে একটি কিশোর ছেলে টেলিভিশনে কার্টুন দেখছিল।
বললাম আমার একটি সিঙ্গেল  রুম চাই।

রুম বরাদ্ধ হলো চার তলায়।
ছেলেটি বললো ভি আইপি রুম।
ভাড়া দুইশত টাকা।
যাহোক দুইটি ব্যাগ নিয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠা অসুবিধা হচ্ছিল,
সে সময় ছেলেটি বললো মামা আমাকে একটা ব্যাগ দিন।
ছেলেটিকে একটি ব্যাগ গছিয়ে দিয়ে কিছুটা সাচ্ছন্দ পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে এগুতে লাগলাম।
ছেলেটির এই মামা ডাকটা আন্তরিক বলে মনে হলো এবং
 আজকাল লোকজন মামা ডাকটা বেশী বেশী ব্যবহার করেন।
রিক্সা ওয়ালাকেও আজকালকার লোকজন মামা বলে সম্বোধন করে।
ছেলের বাবাও একই রিক্সা ওয়ালাকে মামা সম্বোধন করে।
কেন যে রিক্সাওয়ালাকে সবাই মামা সম্বোধন করে জানিনা আমি।
হয়তো লোকজন সমাজের বৈষম্যের শিকার লোকদের প্রতি আন্তরিকতা জানানোর জন্য মামা সম্বোধন করে।

হোটেল রুমে প্রবেশ করে ভি আই পি রুমের কোন লক্ষণ দেখতে পেলাম না।
তবে রাত্রী যাপনের জন্য রুমটি খাড়াপ না।
রুমে পৌঁছে দেবার পর ছেলেটি বিশ টাকা চাইল।
তাকে দশ টাকা দিলাম।
সে খাবার পানি এনে দিল।
প্রয়োজন হলে কলিং বেল টিপার কথা বলে  বিদায় নিল।
রাতে নয়টার সময় সে আবার আমার খোঁজ নিতে আসল।
জানতে চাইল কোন কিছুর পয়োজন আছে কি না।
ছেলেটি আমার কাছ থেকে টাকা নিল আর দোকান থেকে একটি মশার কয়েল কিনে এনে জ্বালিয়ে দিল।
যাতে মশার কামড়ে আমার ঘুমের কোন ব্যাঘাত না হয়।
কারণ রুমে কোন মশাড়ী ছিল না।

আমি জিজ্ঞাসা করলাম,“তোমার নাম কি ?”
ছেলেটি বললো,“আমিন।”
-“বয়স কতো?”
-“ষোল বছর।”
-“কতো বেতন পাও?”
-“প্রতি মাসে তিন হাজার টাকা মামা।”
-“তিন হাজার টাকা দিয়ে কি কর?”
-“প্রতি মাসে দুই হাজার দুইশত টাকা খাবার খাওয়াতে খরচ হয়।”
আমিন এখানে একটু থামলো।
আবার জিঞ্জাসা করলাম,-
-“অবশিষ্ট আটশত টাকা কি কর?”
-“আটশত টাকা বাবা মাকে দেই ।”
এই পর্যায়ে এসে আমিনে প্রতি আমার মনে সহানুভূতি ও আগ্রহ হলো ।
এই ভেবে কষ্ট পেলাম যে, তার মতো কষ্টের জীবন বাংলাদেশের অনেক লক্ষ শিশুর।
ভাবলাম, আমিন শিশু নাকি অল্প বয়সী ?
জাতিসংঘ শিশু অধিকার সনদে ১৮ বছরের কম বয়সী  মানব সন্তানকে শিশু বলা হয়েছে ।
বাংলাদেশের জাতীয় শিশু নীতি ১৪ বছরের নীচে যে কোন বালক-বালিকাকে শিশু বলছে ।
 অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রচলিত সাবালকত্ব আইনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, সাবালকত্বের বয়স শুরু হবে ১৮ বছর থেকে ।
 এই সংজ্ঞা দুটির মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বাংলাদেশ, জাতিসংঘে প্রদত্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে ''শিশু এবং অল্পবয়সী'' শব্দটি ব্যবহার করছে ।
অন্য দিকে নিম্নতম মজুরী আইনে ১৮ বছর পূর্ণ না হলে সে শিশু হিসেবে গণ্য হয় ।
অতএব,আমিন শিশু, অথবা তার বেতন নিয়ে বিতর্ক হতে পারে বাংলাদেশে।
কিন্তু শিশুদের অধিকারের সুষ্ঠ সামাধান হয় না কখনো।

ষোল বছর বয়সের আমিনের এখন অধ্যায়ন করার সময়,স্বপ্ন দেখার সময়,হাসি খুশীর সময়।
 কিন্তু সে হোটেলে কাজ করছে দুবেলা খাবার জন্য, জীবন ধারণের জন্য।
একথা ভাবতেই মনে হলো, অনেক ত্যাগের বিনিময়ে যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে ,
সে স্বাধীনতার কি সুফল পাচ্ছে,আজকের বাংলাদেশের বৈষম্যের শিকার বঞ্চিত শিশুরা ?
কারণ আমিনের বয়সের ছেলেদের স্কুল  কলেজে অধ্যায়ন করা অথবা কাজের ভাল মুজুরী পাওয়া স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল।
শুধু খাবার খাওয়ার জন্য হোটেলে কাজ করার কথা ছিল না।
এমনও হতে পারে আজকের আমিন মতো ছেলেদের বাবা ,চাচা অথবা দাদা দেশের সূখী জীবনের প্রত্যাশায় স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন দিয়েছিলেন।
একটি স্বাধীন দেশে জীবনের শুরুতে এমন কষ্টের কাজ করে জীবন ধারণ করার সংগ্রাম করার দৃশ্য  পীড়া দায়ক।
এই অবস্থার জন্য দায়ী কে ?
জানি না আমি।

আমি আমিনকে জিজ্ঞাসা করলাম,-“তোমার বাবার নাম কি?”
-,“বাবার নাম মনসুর উদ্দিন।”জানাল সে।
এরূপ আলাপ চারিতায় জানা গেল,তার বাড়ী কোম্পানীগঞ্জ।
মার নাম কুলসুমা বেগম।
আমিনের আরো তিন ভাই আছে।
ভাই গুলো হল-,শাহীন বয়স দুই বছর,তোফায়েল বয়স আট বছর ও হাসান বয়স ১৩ বছর।
আমিন সবচেয়ে বড়, সে পড়েছিল ক্লাস  থ্রি পর্যন্ত।

আমিনের পড়ালেখা করার ইচ্ছা থাকলেও পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকার জন্য  পড়া বন্ধ হয়ে যায়।বলল সে।

আমিনের বাবা মুনসুর উদ্দীন পান সুপারীর ছোট ব্যবসা করেন।
মুনসুর উদ্দীনের মাসিক আয় গড়ে দশ হাজার টাকা।
সে টাকায় ছয় জনের সংসার চলে না।
এর মধ্যে ব্যবসার পুঞ্জি বাঁচানো দায়।
দশমিক পনের একর বাড়ীর ভিট ছাড়া আর কোন জমি নেই তাদের।
এই কারণে আমনকে টরেন্টো হোটেল বয় এর কাজ করতে হয় হয়।

সে আরো জানালো যে, হোটেলে বয় এর কাজ এ বেতন কম।
 এই টরেন্টো হোটেলের চাকুরী করবে না।
সে ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে কাজ করবে।
কারণ তার বয়স এখন ষোল বছর বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী খনিতে কাজ করতে পারবে।
তাই বেশী টাকা আয়ের  জন্য ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে চলে যাবে আমিন।
সেখানে দৈনিক চারশত হতে পাঁচশত টাকা পাবে সে।
ভোলাগঞ্জ পাথর খনিতে,নদীর তলদেশ  হতে মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হয়।
সে পাথর টুকরি ভরে মাথায় বহন করে উপরে এনে জড়ো করতে হয় ।
যা খুব কঠিন পরিশ্রমের কাজ।
এই কঠিন পরিশ্রমের কাজ পারবে কি আমিন?
হয়তো পারবে।
কারণ বাংলাদেশে বেঁচে থাকার  জন্য এরকম পরিশ্রমী জীবন লক্ষ আমিনের ভাগ্যের নিয়তি।

বাংলাদেশে এমন লক্ষ লক্ষ শিশু কিশোর ভাগ্য বিড়ম্বিত।
দেশ স্বাধীন হলেও তাদের জীবনে সৌভাগ্য দেখা মিলেনি।
শিশু অধিকার রক্ষার জন্য অনেক ভাল আইন আছে বাংলাদেশে।
শ্রম আইনও রয়েছে।
কিন্তু সে আইন গুলো কি  শিশুদের অধিকার রক্ষা করতে পারছে?
মনে হয় না।
কারণ তা উদাহরণ এই-
আবাসিক হোটেল টরেন্টোর একজন আমিনের কথা..