Showing posts with label Travel ভ্রমন. Show all posts
Showing posts with label Travel ভ্রমন. Show all posts

Friday, December 2, 2016

ট্রেন ভ্রমণের অতীত আরামদায়ক স্মৃতির বিপরীতে বর্তমানে চরম দূর্ভোগের চিত্র

।।ট্রেন ভ্রমণের অতীত আরামদায়ক স্মৃতির বিপরীতে বর্তমানে চরম দূর্ভোগের চিত্র।।

 


ময়ময়সিংহ শহরে বাবার চাকুরীর সুবাদে ছেলেবেলা কেটেছে সেখানে ।বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়  তাই ছেলে বেলায় ময়মনসিংহ - মোহনগঞ্জ রেল যোগে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।সে সময় প্রধাণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল রেল পথ।
অবস্থা এমন হয়েছিল যে,সেখানকার রেল পথের ষ্টেশনগুলোর নাম মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং আজো কিছু মনে আছে
যেমন-মোহনগঞ্জ,অথিতপুর,ঠাকুরকোনা,বারহাট্ট্রা,চল্লিশা,হিরণপুর,নেত্রকোনা কোর্ট,নেত্রকোনা,বিষকা ,শ্যামগঞ্জ,গৌরীপুর,শম্ভুগঞ্জ,ময়মনসিংহ ইত্যাদি।
সে সময় ট্রেন ভ্রমন ছিল সবচেয়ে নিরাপদ আরামদায়ক।
এখনকার ট্রেন ভ্রমণ একটি চরম দূর্ভোগের নাম যেমন-
জরুরী প্রয়োজনে যেতে হয়েছিল চট্রগ্রাম টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাড়িয়ে দীর্ঘ সময়পর কাউন্টারে পৌঁছার পর জানানো হলো যে,-“ টিকেট শেষ কাউন্টারে বসা লোকটি বললেন ,আটটার পরে আসেন হয়তো টিকেট পেতে পারেন।
বললাম,
-“
আটটার পরে কেন ? এখন নয় কেন ?”
-“
নতুন বগি যদি লাগোনো হয় তবে টিকেট পেতে পারেন।ব্যাখ্যা করে জানালেন তিনি।
কয়েকবার অনুরুধ করার পরেও টিকেট পেলাম না।
ফ্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি কি করা যায় ভাবছি
এমন সময় একজন আগান্তুক এসে জানালেন যে, “আমার টিকেট প্রয়োজন কিনা? আরো জানালেন যে, তিনি দালালী করেন না,তবে টিকেট পাইয়ে দিতে পারেন,দাম দেড় গুণ হবে ,এতে তার কোন লাভ নেই শুধুই আমাকে উপকার করা মাত্র।কাউন্টার শত চেষ্টা করেও টিকেট পাবেন না।
ভাবলাম ট্রেন ষ্টেশনের সিন্ডিকেটে তৈরী কালো বাজারের টিকেট।
তবুও আগাস্তুকের কথা শুনে যেনো অমবশ্যার চাঁদ দেখতে পেলাম।তিনি নিয়ে গেলেন এক মুদি দোকানে।
সেখানে উদ্ধারকারী দেবতার দেখা মিলল ,দেড়গুণ টাকা দিয়ে টিকেট কিনলাম।
ভাবলাম,নদী পথের লঞ্চ গুলোর ক্যাবিনের দেয়ালে লেখা দেখা যেতো ,“আপারে ভাড়া দেড়গুণ।
এক্ষত্রে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারে দেড়গুণ বিচিত্র মিল!
আশ্চর্য হয়ে ভাবতে লাগলাম ,কী অদ্ভুদ !টিকেট কাউন্টারে টিকেট নেই,সাড়ে নটার ট্রেনের টিকেট রাত আটটার পর পাওয়া যাবে !অথচ বেশী দামে টিকেট পাওয়া যায় মুদির দোকানে !ভাবলাম অনিয়ম দুর্নীতি রেখেছে মোদের সচল !!
ট্রেনে উঠার পর আরো মজার অভিজ্ঞতা হলো,-
উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট টু চট্টগ্রাম।সিলেট হতে ছাড়ার সময় রাত :২০ ঘন্টা চট্টগ্রামে পৌঁছার সময় সকাল :৩৫ ঘন্টা।
দেখলাম,অনেকেই ষ্টেন্ডিং টিকেট নিয়ে দাড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছেন।
টিকেট কাটার সময় কিউয়ে দাড়িয়ে দেখেছিলাম অনেকে ষ্টেন্ডিং টিকেট কেটেছেন।এই ভদ্রলোকও ছিলেন সেখানে।
ষ্টেন্ডিং টিকেট বিষয়টা আমার কাছে অমানবিক লেগেছে।কষ্টটা তীরের মতো বিদ্ধ হয়েছে,যথন দেখেছি টিকিট চেকারকে টিকেটের অর্ধেক মূল্য বকসিস দিয়ে ট্রেনে চেপে বসেছে অনেক বিনা টিকেটের যাত্রী প্রশ্ন উদয় হলো মনে ট্রেনের সব সিটের টিকেট কি বিক্রয় হয় ?কারণ মোদীর দোকানের খবর সকল আদার ব্যাপারীরা কি জানেন?আমি যে দেখতে নেহায়েত গোবেচারা সরল মানুষ তাই দেবতার দেখা পেয়েছি দেবতা যদি জানতেন আমি ফেসবুকে লেখব,তবে কি দর্শন দিতেন ? অতএব কেন বলা যাবে না দুর্নীতির দেবতার জয় হোক ?
টিকেট কাউন্টারে ষ্টেন্ডিং টিকেটের জন্য আমাকেও অফার করা হয়েছিল, নেইনি।
ট্রেনে উঠে দেখলাম অপর একজন ভদ্রলোক আমার নির্ধারিত সিটে আরামসে বসে আছেন।
তাকে বলার পরও উঠছেন না সহজে।যখন তাকে নিশ্চিত করা হলো সিটটি আমার তখন তিনি বিরক্তিতে ছেড়ে দিয়ে আমার প্রতি যেনো দয়া প্রদর্শণ করলেন।কারণ তার হাতে ধরা একটি টিকেট দেখতে পেয়েছিলাম সেটি নিশ্চই ষ্টেন্ডিং টিকেট এই অবস্থায় ভদ্রলোকের প্রতি দু: প্রকাশ ছাড়া আমার কিইবা করার থাকে ?
কিছুক্ষনের মধ্যে দেখলাম,অনেক সাধারণ মানুষ উঠেছে একজন আমার গা ঘেসে দাড়িয়ে রইলেন
সরে দাঁড়ানোর জন্য বলতে গিয়ে দেখলাম নড়ে দাড়ানোর মতো অবশিষ্ট জায়গা নেই বগি ভর্তি মানুষ !
লোকজনের দেদারসে বিড়ি সিগারেট পানে ধোয়ায় আচ্ছন্ন হলো ট্রেন।
ধূমপান করিবেন না,ধূমপান করা দন্ডনীয় অপরাধট্রেনের গায়ে লাল কালির এই আইনের সতর্কীকরণ লেখাটি সিগারেটের ধোঁয়ায় ঝাপসা হতে দেখলাম।
অবাধে ধূমপানের জন্য একজন অনুরোধ সহকারে আপত্তি তোললেন,ধূমপান না করার জন্য কিন্তু নিরাবতা পালনকারী আইন লংঘনকারীর সংখ্যা বেশী।যেনো ধূমপানে চাপিয়ে দেয়া অনিয়মটাকে নিয়ম করে দুর্নীতির শোক পালন হচ্ছে।নাকি আৈইন লংঘণ করে আনন্দ লাভ ?
ভাবলাম আমার সাথে হয়তো সবাই ভাবছেন,“ কে শুনে কার কথা !?প্রতিবাদ করা অযথা !”
আমার পাশে দাড়ানো লোকটি মেঝেতে বসে পরেছিলেন এক সময়।কতোক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকা যায় ?
বুফে গাড়ির একজন লোক বালতিতে কিছু পানীয় বোতল নিয়ে আসছিলেন আর হাক দিচ্ছিলেন,-
এই ঠান্ডা পানি,কোল ড্রিংক্স
থমকে দাঁড়ালেন পানি বিক্রেতা বসে থাকা লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন,“রাস্তায় বসেছেন কেন ?রাস্তা ছাড়েন !”তর্জনী নির্দেশে যোগ করলেন, “ কর্নারে যান,সেখানে যায়গা আছে কথায় সরকারী কতৃত্বের সূর !মনে সন্দেহের মাছ ঘাই দিল,ইনি কি ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিয়েছেন কিনা ?সন্দেহের কারণ সূত্র হলো চাকুরী নিয়োগের বস্তা ভরা টাকা সহ মন্ত্রীর এপি এস ধরা পড়া ভাবলাম আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর রেখে লাভ কি ?
এজন্য যে,যদি অনিয়মের ভোগান্তি না কমে শুধু দিনকে দিন বাড়ে বাংলাদেশে !?
পানি ফেরীওয়ারার আগ্রাসী মনোভাবে লোকটি বসা থেকে দাড়িয়ে পরলেন
সরকারী পানি ফেরীওয়ারা ফিরার পথে আবার অভিযোগের সুরে বললেন,“আপনাকে বললাম না.. রাস্তা ছেড়ে কোনায় যাবার জন্য
-“
ঐখানে কোন জায়গা নেই ”-লোকটির অসহায় মিন মিনে উত্তর।
লোকটির কথায় উঁকি দিয়ে দেখলাম সেখানে সিগারেটের কুন্ডলীর ভিতর বসে থাকা মানুষের ঠোটে জ্বলত বিড়ি সিগারেটের আখড়া।অর্থাত উপর দিকটি খালি দেখালেও মেঝেতে বসে আছেন আদম সন্তান।খালি নেই।
আমার ভাল কথা বুঝেন না !পুলিশে এসে পিটালে ঠিকই বুঝবেন।”-আক্রোশে ঝাঁজ ঝড়লেন সরকারী পানি ফেরীওয়ালা এই মহান পেশার ফেরীওয়ালা পনের টাকার পানি বিশ টাকায় বিক্রয় করেন ট্রেনে।যদিও এটা তার চাকুরীর প্রকৃত দায়িত্ব নয়।গজরাতে গজরাতে প্রস্থান করলেন পানি ওয়া্লা।কিন্তু আমার একটি কথা জানার ছিল।আবার কি তিনি আসবেন এই কামড়ায় ?
আমি দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে জিঞ্জাসা করলাম,“আপনার বাড়ি কোথায়।
-“
ছাতকলোকটির উত্তর।
-“
টিকেট কেটেছেন।
-“
না সরল জবাব ছাতক বাসীর।
-“
বিনা টিকেটে কিভাবে গাড়িতে উঠলেন ?এটা ইন্টার সিটি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন। যদি টিকেট চেকার ধরে ?”
-“
টিটি আমাদের কাছ থেকে একশত টাকা করে মোট পাঁচশত টাকা নিয়েছে।আমরা এখানে পাঁচ জন।
-“
আপনার কোথায় যাবেন।
-“
অমরা পাঁচজন লাকসাম যাবো ধান কাটতে।জানালেন ছাতকী
লাকসামের ভাড়া দুইশত টাকার ভিতর,যদি আমরা সিট পেতাম তবে অবশ্যই টিকেট করতাম একশত টাকার জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম না।”-যোগ করলেন দাড়ানো ছাতকী।
ভাবলাম সবাই সৎভাবে রাষ্ট্রের সেবা পেতে আগ্রহী জনাব ছাতকীয় এর ব্যতিক্রম নয়।কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনিয়ম অব্যবস্থানায় জনগণকে দুর্নীতির স্রোতের মধ্যে আবর্তীত করে অসহনীয় ভোগান্তির শিকার করছে মানুষকে।
কিছুক্ষণ পরে দেখলাম টিটি দেবতা এলেন।সাদা কোট হাতে প্যাড কলম ভাব খানা এমন ,যেনো অনিয়ম দেখলেই জরিমানা করবেন।ট্রেন থেকে নামিয়ে দিবেন।পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করবেন।কিন্তু আসলেই কি তাই ?মোটেই নয়
দেবতা সম্বোধন এজন্য যে,তার পবিত্র সাদা কোর্টের বিশাল পকেটে বিনা টিকেটের অসহায় জনগণের মহার্ঘ দিয়ে ভর্তি হতে থাকে
এক সহযাত্রী টিটি দেবতার বিনা টিকেটের যাত্রীদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপত্তি তোললেন,প্রতিকারের প্রত্যাশায়
আমি নড়ে চড়ে বসলাম টিটি দেবতার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য কৌতুহলী মনে আগ্রহী হলাম।
তিনি আমতা আমতা করলেন কিছু অস্পষ্ট বাক্য আওড়ালেন।কিছুই করলেন না
হঠাৎ করে আমার নিকট টিকিট দেখতে চাইলেন,টিকেট দেখলেন তারপর সুরুৎ করে চলে গেলেন।
কয়েকটি ষ্টেশন পার হবার দেখলাম যাত্রীর ভীর কিছুটা কমেছে।
কতো আর বসে থাকা যায় একটু হাঁটাহাটি করা প্রয়োজন।
ট্রেনের ভিতর পায়চারী করার সময় দেখলাম,জনাব ছাতকী একটি সিটে বসে আরামে ঘুমোচ্ছেন।ভাল
পরের কামড়ায় দেখলাম ষ্টেন্ডিং টিকেট ধারী ভদ্রলোক বন্ধ দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ঢুলছেন।ভদ্রতার খাতিরে কার পক্ষে ফ্লোরে বসা সম্ভব নয়।
কী বিচিত্র ! অশিক্ষিত একজন লোক টিটিকে টাকা দিয়ে দিব্বি সিটে বসে ঘুমানোর সুবিধা পাচ্ছেন।আরেক জন ষ্টেন্ডিং টিকেট কাটা শিক্ষিত ভদ্রলোক বন্ধ দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে টাল সামলাচ্ছেন।তার বয়স বেশভূষা দেখে অনুমানিত হলো,
তিনি কি কোন চাকুরীর ইন্টার ভিউ দিতে যচ্ছেন ? না কি চাকুরীতে যোগদানের জন্য যাচ্ছেন?
দেখলাম কোথা্ও কোথাও দুই সিটে তিন জন গাদাগাদি করেও বসেছেন।কলেজ বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র হবে হয়তো।
ভাবলাম, দরজায় হেলান দেয়া ভদ্রলোককে কি অনুরুধ করবো আমার সিটে শেয়ার করে বসার জন্য।সেক্ষেত্রে আমার পাশের সহযাত্রী বিষয়টি ভালভাবে নাও নিতে পারেন।
অগত্যা উনাকে বললাম যে,কোন সিট খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেনো কোন বাছ বিচার না করে তাতে বসে পরেন।
তিনি লাজুক হেসে জানালেন যে ,তিনি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন এবং তাই করবেন।
সার্বিক ভাবে এই বলা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সস্তায় যাত্রী সেবা নয়;সস্তার তিন অবস্থা
ট্রেন জার্নি আরাম দায়ক ওজনগণের ভোগান্তি দূর করার জন্য কয়েকটি সুপারিশ-
১। ষ্টেন্ডিং টিকেট দেয়া একটি অমানবিক ব্যবস্থা এটা বন্ধ করতে হবে।
২।বিনা টিকেটে যাত্রী নেয়া বন্ধ করতে হবে।
৩।ট্রেনে ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
৪।ট্রেনের ষ্টাফদের পানি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।
৫।ট্রেনের সকল বগি চেয়ার কোচ করতে হবে।এক্ষেত্রে এসি এবং নন এসি রাখা যেতে পারে।
৬।রেল মন্ত্রনালয়কে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে।
৭।ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে ।
৮। লোকাল ও মেইল  ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৮।পৃথক এক্সপ্রেস ট্রেন লাইন স্থাপন করতে হবে ।এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনের ট্রেনগুলো হবে দ্রুত গতির।বিরতীহীন ভাবে এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে হবে এর চলাচল।যেমন,-সিলেট টু ঢাকা ; সিলেট টু চট্টগ্রাম অথবা ঢাকা টু রাজশাহী  এভাবে চলাচল করবে মাঝখানে কোন ষ্টেশন বিরতি হবে না।
Showing posts with label Travel ভ্রমন. Show all posts
Showing posts with label Travel ভ্রমন. Show all posts

Friday, December 2, 2016

ট্রেন ভ্রমণের অতীত আরামদায়ক স্মৃতির বিপরীতে বর্তমানে চরম দূর্ভোগের চিত্র

।।ট্রেন ভ্রমণের অতীত আরামদায়ক স্মৃতির বিপরীতে বর্তমানে চরম দূর্ভোগের চিত্র।।

 


ময়ময়সিংহ শহরে বাবার চাকুরীর সুবাদে ছেলেবেলা কেটেছে সেখানে ।বাড়ি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায়  তাই ছেলে বেলায় ময়মনসিংহ - মোহনগঞ্জ রেল যোগে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।সে সময় প্রধাণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল রেল পথ।
অবস্থা এমন হয়েছিল যে,সেখানকার রেল পথের ষ্টেশনগুলোর নাম মুখস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং আজো কিছু মনে আছে
যেমন-মোহনগঞ্জ,অথিতপুর,ঠাকুরকোনা,বারহাট্ট্রা,চল্লিশা,হিরণপুর,নেত্রকোনা কোর্ট,নেত্রকোনা,বিষকা ,শ্যামগঞ্জ,গৌরীপুর,শম্ভুগঞ্জ,ময়মনসিংহ ইত্যাদি।
সে সময় ট্রেন ভ্রমন ছিল সবচেয়ে নিরাপদ আরামদায়ক।
এখনকার ট্রেন ভ্রমণ একটি চরম দূর্ভোগের নাম যেমন-
জরুরী প্রয়োজনে যেতে হয়েছিল চট্রগ্রাম টিকিট কাটার জন্য লাইনে দাড়িয়ে দীর্ঘ সময়পর কাউন্টারে পৌঁছার পর জানানো হলো যে,-“ টিকেট শেষ কাউন্টারে বসা লোকটি বললেন ,আটটার পরে আসেন হয়তো টিকেট পেতে পারেন।
বললাম,
-“
আটটার পরে কেন ? এখন নয় কেন ?”
-“
নতুন বগি যদি লাগোনো হয় তবে টিকেট পেতে পারেন।ব্যাখ্যা করে জানালেন তিনি।
কয়েকবার অনুরুধ করার পরেও টিকেট পেলাম না।
ফ্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি কি করা যায় ভাবছি
এমন সময় একজন আগান্তুক এসে জানালেন যে, “আমার টিকেট প্রয়োজন কিনা? আরো জানালেন যে, তিনি দালালী করেন না,তবে টিকেট পাইয়ে দিতে পারেন,দাম দেড় গুণ হবে ,এতে তার কোন লাভ নেই শুধুই আমাকে উপকার করা মাত্র।কাউন্টার শত চেষ্টা করেও টিকেট পাবেন না।
ভাবলাম ট্রেন ষ্টেশনের সিন্ডিকেটে তৈরী কালো বাজারের টিকেট।
তবুও আগাস্তুকের কথা শুনে যেনো অমবশ্যার চাঁদ দেখতে পেলাম।তিনি নিয়ে গেলেন এক মুদি দোকানে।
সেখানে উদ্ধারকারী দেবতার দেখা মিলল ,দেড়গুণ টাকা দিয়ে টিকেট কিনলাম।
ভাবলাম,নদী পথের লঞ্চ গুলোর ক্যাবিনের দেয়ালে লেখা দেখা যেতো ,“আপারে ভাড়া দেড়গুণ।
এক্ষত্রে ট্রেনের টিকেট কালোবাজারে দেড়গুণ বিচিত্র মিল!
আশ্চর্য হয়ে ভাবতে লাগলাম ,কী অদ্ভুদ !টিকেট কাউন্টারে টিকেট নেই,সাড়ে নটার ট্রেনের টিকেট রাত আটটার পর পাওয়া যাবে !অথচ বেশী দামে টিকেট পাওয়া যায় মুদির দোকানে !ভাবলাম অনিয়ম দুর্নীতি রেখেছে মোদের সচল !!
ট্রেনে উঠার পর আরো মজার অভিজ্ঞতা হলো,-
উদয়ন এক্সপ্রেস সিলেট টু চট্টগ্রাম।সিলেট হতে ছাড়ার সময় রাত :২০ ঘন্টা চট্টগ্রামে পৌঁছার সময় সকাল :৩৫ ঘন্টা।
দেখলাম,অনেকেই ষ্টেন্ডিং টিকেট নিয়ে দাড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার জন্য ট্রেনে উঠেছেন।
টিকেট কাটার সময় কিউয়ে দাড়িয়ে দেখেছিলাম অনেকে ষ্টেন্ডিং টিকেট কেটেছেন।এই ভদ্রলোকও ছিলেন সেখানে।
ষ্টেন্ডিং টিকেট বিষয়টা আমার কাছে অমানবিক লেগেছে।কষ্টটা তীরের মতো বিদ্ধ হয়েছে,যথন দেখেছি টিকিট চেকারকে টিকেটের অর্ধেক মূল্য বকসিস দিয়ে ট্রেনে চেপে বসেছে অনেক বিনা টিকেটের যাত্রী প্রশ্ন উদয় হলো মনে ট্রেনের সব সিটের টিকেট কি বিক্রয় হয় ?কারণ মোদীর দোকানের খবর সকল আদার ব্যাপারীরা কি জানেন?আমি যে দেখতে নেহায়েত গোবেচারা সরল মানুষ তাই দেবতার দেখা পেয়েছি দেবতা যদি জানতেন আমি ফেসবুকে লেখব,তবে কি দর্শন দিতেন ? অতএব কেন বলা যাবে না দুর্নীতির দেবতার জয় হোক ?
টিকেট কাউন্টারে ষ্টেন্ডিং টিকেটের জন্য আমাকেও অফার করা হয়েছিল, নেইনি।
ট্রেনে উঠে দেখলাম অপর একজন ভদ্রলোক আমার নির্ধারিত সিটে আরামসে বসে আছেন।
তাকে বলার পরও উঠছেন না সহজে।যখন তাকে নিশ্চিত করা হলো সিটটি আমার তখন তিনি বিরক্তিতে ছেড়ে দিয়ে আমার প্রতি যেনো দয়া প্রদর্শণ করলেন।কারণ তার হাতে ধরা একটি টিকেট দেখতে পেয়েছিলাম সেটি নিশ্চই ষ্টেন্ডিং টিকেট এই অবস্থায় ভদ্রলোকের প্রতি দু: প্রকাশ ছাড়া আমার কিইবা করার থাকে ?
কিছুক্ষনের মধ্যে দেখলাম,অনেক সাধারণ মানুষ উঠেছে একজন আমার গা ঘেসে দাড়িয়ে রইলেন
সরে দাঁড়ানোর জন্য বলতে গিয়ে দেখলাম নড়ে দাড়ানোর মতো অবশিষ্ট জায়গা নেই বগি ভর্তি মানুষ !
লোকজনের দেদারসে বিড়ি সিগারেট পানে ধোয়ায় আচ্ছন্ন হলো ট্রেন।
ধূমপান করিবেন না,ধূমপান করা দন্ডনীয় অপরাধট্রেনের গায়ে লাল কালির এই আইনের সতর্কীকরণ লেখাটি সিগারেটের ধোঁয়ায় ঝাপসা হতে দেখলাম।
অবাধে ধূমপানের জন্য একজন অনুরোধ সহকারে আপত্তি তোললেন,ধূমপান না করার জন্য কিন্তু নিরাবতা পালনকারী আইন লংঘনকারীর সংখ্যা বেশী।যেনো ধূমপানে চাপিয়ে দেয়া অনিয়মটাকে নিয়ম করে দুর্নীতির শোক পালন হচ্ছে।নাকি আৈইন লংঘণ করে আনন্দ লাভ ?
ভাবলাম আমার সাথে হয়তো সবাই ভাবছেন,“ কে শুনে কার কথা !?প্রতিবাদ করা অযথা !”
আমার পাশে দাড়ানো লোকটি মেঝেতে বসে পরেছিলেন এক সময়।কতোক্ষণ আর দাঁড়িয়ে থাকা যায় ?
বুফে গাড়ির একজন লোক বালতিতে কিছু পানীয় বোতল নিয়ে আসছিলেন আর হাক দিচ্ছিলেন,-
এই ঠান্ডা পানি,কোল ড্রিংক্স
থমকে দাঁড়ালেন পানি বিক্রেতা বসে থাকা লোকটির উদ্দেশ্যে বললেন,“রাস্তায় বসেছেন কেন ?রাস্তা ছাড়েন !”তর্জনী নির্দেশে যোগ করলেন, “ কর্নারে যান,সেখানে যায়গা আছে কথায় সরকারী কতৃত্বের সূর !মনে সন্দেহের মাছ ঘাই দিল,ইনি কি ঘুষ দিয়ে চাকুরী নিয়েছেন কিনা ?সন্দেহের কারণ সূত্র হলো চাকুরী নিয়োগের বস্তা ভরা টাকা সহ মন্ত্রীর এপি এস ধরা পড়া ভাবলাম আদার ব্যাপারী হয়ে জাহাজের খবর রেখে লাভ কি ?
এজন্য যে,যদি অনিয়মের ভোগান্তি না কমে শুধু দিনকে দিন বাড়ে বাংলাদেশে !?
পানি ফেরীওয়ারার আগ্রাসী মনোভাবে লোকটি বসা থেকে দাড়িয়ে পরলেন
সরকারী পানি ফেরীওয়ারা ফিরার পথে আবার অভিযোগের সুরে বললেন,“আপনাকে বললাম না.. রাস্তা ছেড়ে কোনায় যাবার জন্য
-“
ঐখানে কোন জায়গা নেই ”-লোকটির অসহায় মিন মিনে উত্তর।
লোকটির কথায় উঁকি দিয়ে দেখলাম সেখানে সিগারেটের কুন্ডলীর ভিতর বসে থাকা মানুষের ঠোটে জ্বলত বিড়ি সিগারেটের আখড়া।অর্থাত উপর দিকটি খালি দেখালেও মেঝেতে বসে আছেন আদম সন্তান।খালি নেই।
আমার ভাল কথা বুঝেন না !পুলিশে এসে পিটালে ঠিকই বুঝবেন।”-আক্রোশে ঝাঁজ ঝড়লেন সরকারী পানি ফেরীওয়ালা এই মহান পেশার ফেরীওয়ালা পনের টাকার পানি বিশ টাকায় বিক্রয় করেন ট্রেনে।যদিও এটা তার চাকুরীর প্রকৃত দায়িত্ব নয়।গজরাতে গজরাতে প্রস্থান করলেন পানি ওয়া্লা।কিন্তু আমার একটি কথা জানার ছিল।আবার কি তিনি আসবেন এই কামড়ায় ?
আমি দাঁড়িয়ে থাকা লোকটিকে জিঞ্জাসা করলাম,“আপনার বাড়ি কোথায়।
-“
ছাতকলোকটির উত্তর।
-“
টিকেট কেটেছেন।
-“
না সরল জবাব ছাতক বাসীর।
-“
বিনা টিকেটে কিভাবে গাড়িতে উঠলেন ?এটা ইন্টার সিটি উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেন। যদি টিকেট চেকার ধরে ?”
-“
টিটি আমাদের কাছ থেকে একশত টাকা করে মোট পাঁচশত টাকা নিয়েছে।আমরা এখানে পাঁচ জন।
-“
আপনার কোথায় যাবেন।
-“
অমরা পাঁচজন লাকসাম যাবো ধান কাটতে।জানালেন ছাতকী
লাকসামের ভাড়া দুইশত টাকার ভিতর,যদি আমরা সিট পেতাম তবে অবশ্যই টিকেট করতাম একশত টাকার জন্য দাঁড়িয়ে যেতাম না।”-যোগ করলেন দাড়ানো ছাতকী।
ভাবলাম সবাই সৎভাবে রাষ্ট্রের সেবা পেতে আগ্রহী জনাব ছাতকীয় এর ব্যতিক্রম নয়।কিন্তু রাষ্ট্রীয় অনিয়ম অব্যবস্থানায় জনগণকে দুর্নীতির স্রোতের মধ্যে আবর্তীত করে অসহনীয় ভোগান্তির শিকার করছে মানুষকে।
কিছুক্ষণ পরে দেখলাম টিটি দেবতা এলেন।সাদা কোট হাতে প্যাড কলম ভাব খানা এমন ,যেনো অনিয়ম দেখলেই জরিমানা করবেন।ট্রেন থেকে নামিয়ে দিবেন।পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করবেন।কিন্তু আসলেই কি তাই ?মোটেই নয়
দেবতা সম্বোধন এজন্য যে,তার পবিত্র সাদা কোর্টের বিশাল পকেটে বিনা টিকেটের অসহায় জনগণের মহার্ঘ দিয়ে ভর্তি হতে থাকে
এক সহযাত্রী টিটি দেবতার বিনা টিকেটের যাত্রীদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে আপত্তি তোললেন,প্রতিকারের প্রত্যাশায়
আমি নড়ে চড়ে বসলাম টিটি দেবতার প্রতিক্রিয়া দেখার জন্য কৌতুহলী মনে আগ্রহী হলাম।
তিনি আমতা আমতা করলেন কিছু অস্পষ্ট বাক্য আওড়ালেন।কিছুই করলেন না
হঠাৎ করে আমার নিকট টিকিট দেখতে চাইলেন,টিকেট দেখলেন তারপর সুরুৎ করে চলে গেলেন।
কয়েকটি ষ্টেশন পার হবার দেখলাম যাত্রীর ভীর কিছুটা কমেছে।
কতো আর বসে থাকা যায় একটু হাঁটাহাটি করা প্রয়োজন।
ট্রেনের ভিতর পায়চারী করার সময় দেখলাম,জনাব ছাতকী একটি সিটে বসে আরামে ঘুমোচ্ছেন।ভাল
পরের কামড়ায় দেখলাম ষ্টেন্ডিং টিকেট ধারী ভদ্রলোক বন্ধ দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে ঢুলছেন।ভদ্রতার খাতিরে কার পক্ষে ফ্লোরে বসা সম্ভব নয়।
কী বিচিত্র ! অশিক্ষিত একজন লোক টিটিকে টাকা দিয়ে দিব্বি সিটে বসে ঘুমানোর সুবিধা পাচ্ছেন।আরেক জন ষ্টেন্ডিং টিকেট কাটা শিক্ষিত ভদ্রলোক বন্ধ দরজায় হেলান দিয়ে দাড়িয়ে টাল সামলাচ্ছেন।তার বয়স বেশভূষা দেখে অনুমানিত হলো,
তিনি কি কোন চাকুরীর ইন্টার ভিউ দিতে যচ্ছেন ? না কি চাকুরীতে যোগদানের জন্য যাচ্ছেন?
দেখলাম কোথা্ও কোথাও দুই সিটে তিন জন গাদাগাদি করেও বসেছেন।কলেজ বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র হবে হয়তো।
ভাবলাম, দরজায় হেলান দেয়া ভদ্রলোককে কি অনুরুধ করবো আমার সিটে শেয়ার করে বসার জন্য।সেক্ষেত্রে আমার পাশের সহযাত্রী বিষয়টি ভালভাবে নাও নিতে পারেন।
অগত্যা উনাকে বললাম যে,কোন সিট খালি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি যেনো কোন বাছ বিচার না করে তাতে বসে পরেন।
তিনি লাজুক হেসে জানালেন যে ,তিনি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন এবং তাই করবেন।
সার্বিক ভাবে এই বলা যায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে সস্তায় যাত্রী সেবা নয়;সস্তার তিন অবস্থা
ট্রেন জার্নি আরাম দায়ক ওজনগণের ভোগান্তি দূর করার জন্য কয়েকটি সুপারিশ-
১। ষ্টেন্ডিং টিকেট দেয়া একটি অমানবিক ব্যবস্থা এটা বন্ধ করতে হবে।
২।বিনা টিকেটে যাত্রী নেয়া বন্ধ করতে হবে।
৩।ট্রেনে ধূমপান বন্ধ করতে হবে।
৪।ট্রেনের ষ্টাফদের পানি ব্যবসা বন্ধ করতে হবে।
৫।ট্রেনের সকল বগি চেয়ার কোচ করতে হবে।এক্ষেত্রে এসি এবং নন এসি রাখা যেতে পারে।
৬।রেল মন্ত্রনালয়কে দুর্নীতি মুক্ত করতে হবে।
৭।ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে ।
৮। লোকাল ও মেইল  ট্রেনের সংখ্যা বাড়াতে হবে।
৮।পৃথক এক্সপ্রেস ট্রেন লাইন স্থাপন করতে হবে ।এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনের ট্রেনগুলো হবে দ্রুত গতির।বিরতীহীন ভাবে এক বিভাগ হতে অন্য বিভাগে হবে এর চলাচল।যেমন,-সিলেট টু ঢাকা ; সিলেট টু চট্টগ্রাম অথবা ঢাকা টু রাজশাহী  এভাবে চলাচল করবে মাঝখানে কোন ষ্টেশন বিরতি হবে না।