Monday, November 9, 2015

বাবুই পাখি

বাবুই পাখি

বাবুই পাখিরে ডাকি,বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থাকি কর,শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ ,বৃষ্টি,ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে,“সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই,তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক.তবু ভাই,পরের ও বাসা
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর,খাসা।”
কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী স্বাধীনতার সুখ  ছড়াটির নায়ক গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ।
আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর চোখে পড়ে না।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখিরা। সে বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখি শক্তবুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কঠিন। বাবুই একধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গী খুঁজতে। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে পূরুণ বাবুই। পুরুষ বাবুই স্ত্রী বাবুইকে নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। এরপর উঁচু তালগাছ, নারিকেল বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে।
বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাঙ্ক্ষিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে পুরুষ বাবুইয়ের সময় লাগে চার দিন। কেননা তখন পুরুষ বাবুই মহাআনন্দে বিরামহীন কাজ করে। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণভাবে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক সঙ্গীকে। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর সংসার করতে পারে ছয় সঙ্গীর সঙ্গে, তাতে স্ত্রী বাবুইয়ের না নেই। স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর তিন সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা ছেড়ে উড়ে যায়।
বাবুই পাখির বাসা উল্টানো কলসীর মত দেখতে। বাসা বানাবার জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয় ঘাসের আস্তরণ সারায়। যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে(পালিশ করে) গোল অবয়ব মসৃণ করে। শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গা হয়। অন্যদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ হয়। রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়।

বাবুই এটি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও নেই।বাবুই সাধারণত ৩ প্রজাতির হয়ে থাকে,
১ । দেশি বাবুই (Ploceus philippinus),
২ । দাগি বাবুই (Ploceus manyar)
৩। বাংলা বাবুই (Ploceus bengalensis)
এদের মধ্যে বাংলা ও দাগি বাবুই এর প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, তবে দেশি বাবুই এখনো দেশের সব গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর, রেইনট্রি গাছে দলবেঁধে বাসা বোনে। এরা সাধারণত মানুষের কাছাকাছি বসবাস করে, তাই দেখা যায় এদের বাসা মানুষের হাতের নাগালের মাত্র পাঁচ অথবা ছয় ফুট উপরে। ফলে অনেক অসচেতন মানুষ এদের বাসা ভেঙে ফেলে আর একারণেই এদের সংখ্যা রহস্যজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
বাবুইয়ের বাসা করার জন্য প্রয়োজন হয় নলখাগড়া ও হোগলার বন। কিন্তু দেশে নল ও হোগলার বন কমে যাওয়ায় এই বাবুইয়ের সংখ্যা খুবই কম। তা ছাড়া এই পাখি যেখানে বাস করে নল ও হোগলার বনে সেখানে মানুষের চলাচল থাকে। এরা সাধারণত খুটে খুটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারন করে। গ্রিষ্মকাল এদের প্রজনন ঋতু। তারা সাধারণত কাটা জাতীয় বৃক্ষে বাসা তৈরি করে এবং আহার সংগ্রহে সুবিধা হয় এমন স্থান নির্বাচন করে।
দেশি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগঃ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. philippinus
দাগি বাবুই: দাগি বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus philippinusএবং ইংরেজি নাম Ploceus manyar। এরা সাধারণত উত্তাল নয় এমন জলাধারের উপরে গাছপালায় বাসা তৈরি করে বসবাস করে।
দাগি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. manyar
বাংলা বাবুই: বাংলা বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus benghalensis ইংরেজি নাম Bengal Weaver অথবা Black-breasted Weaver. এরা
বাংলা বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. benghalensis

হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।

একটা সময় গ্রামের বাড়িগুলোতে কিংবা পথের পাশের তালগাছের দিকে লক্ষ করলেই চোখে পড়ত বাবুই  পাখির বাসা। সকাল থেকে সাঁঝের বেলা পর্যন্ত চলত  তাদের বাসা তৈরির কারুকাজ।  বাবুই পাখির মতো করে এমন নিখুঁত বাসা তৈরির কাজ আর কোনো পাখি করতে পারে না। বৈচিত্র্যের দিক থেকে এই পাখির বাসা কেবল দৃষ্টিনন্দনই না, বরং আর্কিটেকচারাল দিক থেকেও নিখুঁত। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে এর টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো।  অধিক জনসংখ্যায় ভারে নূব্জ বাংলাদেশ হতে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।
গ্রামে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে গেলেও বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশে দিনে দিনে মানুষ বাড়লেও কমছে পশু-পাখির সংখ্যা। অসচেতনতা, পাখি শিকার এবং আবাসন ব্যবস্থার কারণে গাছ কেটে ফেলার কারণে গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ  বিলুপ্তির পথে। বাবুই পাখিকে মূলত শিল্পীপাখি বলা হয়।  বাবুই পাখির সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ। কারণ বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু, রেণু প্রভৃতি খেয়ে জীবনধারণ করে। ফসলি জমিতে অতিরিক্ত বিষ প্রয়োগের কারণে বাবুই পাখির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বিপণ্ন পাখির তালিকায় উঠে এসেছে বাবুইয়ের নাম।
বিশিষ্ট পাখি পর্যবেক্ষক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানান, ‘বাংলা বাবুই, যার নামের শেষে বেঙ্গেলেনসিন আছে, তাই এরা বাংলার বাবুই। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এ পাখি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে মাত্র ১০০টি বাংলা বাবুই থাকতে পারে।’ তিনি অরও জানান, ‘২০০৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের এক গ্রামে হোগলার বনে কিছু বাসা দেখেছিলাম, কিন্তু কয়েক দিন পর গিয়ে আর একটি বাসাও দেখতে পাইনি; মানুষ বাসাগুলো ভেঙে ফেলেছে!

কিছু প্রজাতির বাবুই পাখির বসবাস  নল ও হোগলার বনে।এখন সেখানে মানুষের চলাচল থাকে। বাবুই বাসা বোনে মানুষের হাতের নাগালে পাঁচ থেকে ছয় ফুট ওপরে। তাই সহজেই গ্রাম কিংবা চর এলাকার অসচেতন মানুষ এদের বাস ভেঙে ফেলে। এ কারণে অধিকাংশ বাবুই ডিম ফুটিয়ে ছানা বড় করে তুলে নিতে পারে না।
আজকাল বাবুয়ের  বাসা গাছের ডালপালা থেকে খুলে এনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে শোপিছ হিসাবে ৭০ থেকে ১০০/১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বন্যপাখি বিশেষত অথিতি পাখি নিধন ও বিক্রি বন্ধে সরকার যেরকম আইন করেছে!!! জানিনা এরকম পাখির বাসা ছিনিয়ে নেবার ব্যাপারে সরকারের কোন আইন আছে কিনা?
থাকলেও সে আইন যে কার্যকর নয় তা নিউমার্কেটে গেলেই বোঝা যায়।

যেহেতু এ পাখি মানুষের খুব নাগালে বাসা বোনে, তাই মানুষের সচেতনতাই পারে এ পাখির বংশ টিকিয়ে রাখতে।
দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা এতটাই কমে যাচ্ছে হয়তো অদূর ভবিষ্যৎতে বাবুই পাখি চোখেই পড়বে না। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ঐক্য। পাখি শিকার এবং অকারণে গাছ কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা সচেতন হলে প্রকৃতির কোনো কিছুই আর হারিয়ে যাবে না।

Monday, November 9, 2015

বাবুই পাখি

বাবুই পাখি

বাবুই পাখিরে ডাকি,বলিছে চড়াই,
“কুঁড়ে ঘরে থাকি কর,শিল্পের বড়াই,
আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকা পরে,
তুমি কত কষ্ট পাও রোদ ,বৃষ্টি,ঝড়ে।”
বাবুই হাসিয়া কহে,“সন্দেহ কি তায়?
কষ্ট পাই,তবু থাকি নিজের বাসায়।
পাকা হোক.তবু ভাই,পরের ও বাসা
নিজ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর,খাসা।”
কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী স্বাধীনতার সুখ  ছড়াটির নায়ক গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ।
আগের মতো বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ আর চোখে পড়ে না।দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এই শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়ের ফালি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতাপাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখিরা। সে বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা। বাবুই পাখি শক্তবুননের এ বাসা টেনেও ছেঁড়া কঠিন। বাবুই একধারে শিল্পী, স্থপতি এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আরেক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গী খুঁজতে। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুইকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে পূরুণ বাবুই। পুরুষ বাবুই স্ত্রী বাবুইকে নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। এরপর উঁচু তালগাছ, নারিকেল বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে।
বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাঙ্ক্ষিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে সেই বাসা দেখায়। বাসা পছন্দ হলেই কেবল সম্পর্ক গড়ে। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে পুরুষ বাবুইয়ের সময় লাগে চার দিন। কেননা তখন পুরুষ বাবুই মহাআনন্দে বিরামহীন কাজ করে। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণভাবে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খুঁজতে থাকে আরেক সঙ্গীকে। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ছয়টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে। অর্থাৎ এরা ঘর সংসার করতে পারে ছয় সঙ্গীর সঙ্গে, তাতে স্ত্রী বাবুইয়ের না নেই। স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে বাচ্চা ফোটে। আর তিন সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা ছেড়ে উড়ে যায়।
বাবুই পাখির বাসা উল্টানো কলসীর মত দেখতে। বাসা বানাবার জন্য বাবুই খুব পরিশ্রম করে। ঠোঁট দিয় ঘাসের আস্তরণ সারায়। যত্ন করে পেট দিয়ে ঘষে(পালিশ করে) গোল অবয়ব মসৃণ করে। শুরুতে দুটি নিম্নমুখী গর্ত থাকে। পরে একদিক বন্ধ করে ডিম রাখার জায়গা হয়। অন্যদিকটি লম্বা করে প্রবেশ ও প্রস্থান পথ হয়। রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করার জন্য এরা জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে আবার তাদের ছেড়ে দেয়।

বাবুই এটি দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও নেই।বাবুই সাধারণত ৩ প্রজাতির হয়ে থাকে,
১ । দেশি বাবুই (Ploceus philippinus),
২ । দাগি বাবুই (Ploceus manyar)
৩। বাংলা বাবুই (Ploceus bengalensis)
এদের মধ্যে বাংলা ও দাগি বাবুই এর প্রজাতি বিলুপ্তির পথে, তবে দেশি বাবুই এখনো দেশের সব গ্রামের তাল, নারিকেল, খেজুর, রেইনট্রি গাছে দলবেঁধে বাসা বোনে। এরা সাধারণত মানুষের কাছাকাছি বসবাস করে, তাই দেখা যায় এদের বাসা মানুষের হাতের নাগালের মাত্র পাঁচ অথবা ছয় ফুট উপরে। ফলে অনেক অসচেতন মানুষ এদের বাসা ভেঙে ফেলে আর একারণেই এদের সংখ্যা রহস্যজনকভাবে কমে যাচ্ছে।
বাবুইয়ের বাসা করার জন্য প্রয়োজন হয় নলখাগড়া ও হোগলার বন। কিন্তু দেশে নল ও হোগলার বন কমে যাওয়ায় এই বাবুইয়ের সংখ্যা খুবই কম। তা ছাড়া এই পাখি যেখানে বাস করে নল ও হোগলার বনে সেখানে মানুষের চলাচল থাকে। এরা সাধারণত খুটে খুটে বিভিন্ন ধরনের বীজ, ধান, ভাত, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু-রেণু ইত্যাদি খেয়ে জীবনধারন করে। গ্রিষ্মকাল এদের প্রজনন ঋতু। তারা সাধারণত কাটা জাতীয় বৃক্ষে বাসা তৈরি করে এবং আহার সংগ্রহে সুবিধা হয় এমন স্থান নির্বাচন করে।
দেশি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগঃ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. philippinus
দাগি বাবুই: দাগি বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus philippinusএবং ইংরেজি নাম Ploceus manyar। এরা সাধারণত উত্তাল নয় এমন জলাধারের উপরে গাছপালায় বাসা তৈরি করে বসবাস করে।
দাগি বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. manyar
বাংলা বাবুই: বাংলা বাবুই যার বৈজ্ঞানিক নাম Ploceus benghalensis ইংরেজি নাম Bengal Weaver অথবা Black-breasted Weaver. এরা
বাংলা বাবুই এর বৈজ্ঞানিক শ্রেণীবিভাগ
Kingdom:Animalia
Phylum:কর্ডাটা
Class:Aves
Order:Passeriformes
Family:Ploceidae
Genus:Ploceus
Species:P. benghalensis

হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।

একটা সময় গ্রামের বাড়িগুলোতে কিংবা পথের পাশের তালগাছের দিকে লক্ষ করলেই চোখে পড়ত বাবুই  পাখির বাসা। সকাল থেকে সাঁঝের বেলা পর্যন্ত চলত  তাদের বাসা তৈরির কারুকাজ।  বাবুই পাখির মতো করে এমন নিখুঁত বাসা তৈরির কাজ আর কোনো পাখি করতে পারে না। বৈচিত্র্যের দিক থেকে এই পাখির বাসা কেবল দৃষ্টিনন্দনই না, বরং আর্কিটেকচারাল দিক থেকেও নিখুঁত। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি ও বাতাসের কারণে এর টিকে থাকার বৈশিষ্ট্য চোখে পড়ার মতো।  অধিক জনসংখ্যায় ভারে নূব্জ বাংলাদেশ হতে হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও তার শৈল্পিক নিদর্শনের বাসা।
গ্রামে এখন মাইলের পর মাইল হেঁটে গেলেও বাবুই পাখির ঝুলন্ত বাসা চোখে পড়ে না।
বাংলাদেশে দিনে দিনে মানুষ বাড়লেও কমছে পশু-পাখির সংখ্যা। অসচেতনতা, পাখি শিকার এবং আবাসন ব্যবস্থার কারণে গাছ কেটে ফেলার কারণে গ্রামবাংলার এই নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ  বিলুপ্তির পথে। বাবুই পাখিকে মূলত শিল্পীপাখি বলা হয়।  বাবুই পাখির সংখ্যা দিনে দিনে কমে আসছে। এর পেছনের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে ফসলি জমিতে বিষ প্রয়োগ। কারণ বাবুই পাখি সাধারণত বিভিন্ন ফসলের বীজ, ধান, পোকা, ঘাস, ছোট উদ্ভিদের পাতা, ফুলের মধু, রেণু প্রভৃতি খেয়ে জীবনধারণ করে। ফসলি জমিতে অতিরিক্ত বিষ প্রয়োগের কারণে বাবুই পাখির খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে বিপণ্ন পাখির তালিকায় উঠে এসেছে বাবুইয়ের নাম।
বিশিষ্ট পাখি পর্যবেক্ষক ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক জানান, ‘বাংলা বাবুই, যার নামের শেষে বেঙ্গেলেনসিন আছে, তাই এরা বাংলার বাবুই। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এ পাখি দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশে মাত্র ১০০টি বাংলা বাবুই থাকতে পারে।’ তিনি অরও জানান, ‘২০০৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনের এক গ্রামে হোগলার বনে কিছু বাসা দেখেছিলাম, কিন্তু কয়েক দিন পর গিয়ে আর একটি বাসাও দেখতে পাইনি; মানুষ বাসাগুলো ভেঙে ফেলেছে!

কিছু প্রজাতির বাবুই পাখির বসবাস  নল ও হোগলার বনে।এখন সেখানে মানুষের চলাচল থাকে। বাবুই বাসা বোনে মানুষের হাতের নাগালে পাঁচ থেকে ছয় ফুট ওপরে। তাই সহজেই গ্রাম কিংবা চর এলাকার অসচেতন মানুষ এদের বাস ভেঙে ফেলে। এ কারণে অধিকাংশ বাবুই ডিম ফুটিয়ে ছানা বড় করে তুলে নিতে পারে না।
আজকাল বাবুয়ের  বাসা গাছের ডালপালা থেকে খুলে এনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন মার্কেটে শোপিছ হিসাবে ৭০ থেকে ১০০/১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বন্যপাখি বিশেষত অথিতি পাখি নিধন ও বিক্রি বন্ধে সরকার যেরকম আইন করেছে!!! জানিনা এরকম পাখির বাসা ছিনিয়ে নেবার ব্যাপারে সরকারের কোন আইন আছে কিনা?
থাকলেও সে আইন যে কার্যকর নয় তা নিউমার্কেটে গেলেই বোঝা যায়।

যেহেতু এ পাখি মানুষের খুব নাগালে বাসা বোনে, তাই মানুষের সচেতনতাই পারে এ পাখির বংশ টিকিয়ে রাখতে।
দিন দিন বাবুই পাখির সংখ্যা এতটাই কমে যাচ্ছে হয়তো অদূর ভবিষ্যৎতে বাবুই পাখি চোখেই পড়বে না। তাই প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। গড়ে তুলতে হবে সামাজিক ঐক্য। পাখি শিকার এবং অকারণে গাছ কেটে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। আমরা সচেতন হলে প্রকৃতির কোনো কিছুই আর হারিয়ে যাবে না।