Saturday, August 29, 2015

বাংলাদেশে ইবনে বতুতা


ইবনে বতুতার রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক ভ্রমণ কাহিনী
ইবনে বতুতা(১৩০৪-১৩৬৯)

  মালদ্বীপ থেকে রওয়ানা হয়ে ৪৩ রাত সাগরে পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছলাম।বাংলাদেশটা বিশাল ।এদেশে প্রচুর চাল উতপন্ন হয়।এদেশে জিনিসপত্র এত সস্তা যে,পৃথিবীর অন্য কোথাও আমি দেখিনি।তবে এদেশের মানুষ অত্যাচারিত এবং এখানকার পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক।খোরাসানিরা এদেশ সম্পর্কে বলে,
‘দোজকপুর আজ নেয়ামত `
-অর্থাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ এক দোজক।
(বাংলাদেশের প্রচীন মানচিত্র ১২২৭-১৭৫৭ সাল)
বাংলাদেশের বাজারে পাঁচ রতল(দিল্লির মাপে)চাল বিক্রী হয় এক রূপার দিনারে।তারপরেও লোকজন বলছে এ বছর দাম বেশী।এক রূপার দিনার আট দিরহামের সমান । এখানকার দিরহাম আমাদের (মরক্কোর)দিরহামের সমমানের।দিল্লীর এক রতল মরক্কোর দশ রতলের সমান।
মোহাম্মদ মাসমুদি মাগরেবী নামে এক ব্যাক্ত বাংলাদেশে বসবাস করেন দিল্লীতে তিনি মারা যান।তিনি আমাকে বলেছিলেন,বাংলাদেশে এক স্ত্রী ও এক খাদেমকে নিয়ে থাকতেন।মাত্র আট দিরহামে তাদের তিনজনের বছরের খরচ মিটে যেত।তিনি আট দিরহাম দিয়ে আশি রতল(দিল্লীর মাপ)ধান কিনতেন। সেগুলো ভাঙিয়ে চাল পেতেন পঞ্চাশ রতল ।যা ছিল দশ কুইন্টালের সমান।(১০০ কেজিতে ১ কুইন্টাল)।
বাংলাদেশে আমি নিজে দেখেছি একটি দুধেল গাভী তিন রূপার দিনারে বিক্রী হচ্ছে।
(রূপার কয়েন-১৩৩৩-১৩৫৯ সাল)
এ ছাড়া এক দিরহামে আটটি মোটা তাজা মোরগ,এক দিরহামে পনেরটি কবুতরের বাচ্চা,দৃই দিরহামে একটি মোটা তাজা খাসি ও এছাড়া চার দিরহামে এক রতল চিনি,আট দিরহামে এক রতল সরবত,চার দিরহামে এক রতল তেল এবং দুই দিরহামে এক রতল তিসির তেল বিক্রী হতে দেখেছি ।
(সুলতান ফখরুদ্দীন আমলের সোনার কয়েন ১৩৩৮-১৩৪৯ সাল)

চিকন সুতায় বোনা তিরিশ জেরার (হাত)এক থান কাপড় বিক্রী হয় দুই দিনারে ।
বাংলাদেশে দাস দাসী বিক্রী হয়।এক স্বর্ণ দিনারে অল্প বয়েসী সুন্দরী এক দাসী বিছানা সহ কিনতে পাওয়া যায়।এখানকার এক সোনার দিনার মরক্কোর আড়াই স্বর্ণ দিনারের সমান ।আমি প্রায় এরকম দামেই অশুরা নামের অত্যন্ত সুন্দরী এক অল্প বয়েসী দাসী কিনেছিলাম।আমার এক সাথী দুই স্বর্ণ দিনার দিয়ে লুলু নামের অল্প বয়েসী এক চাকর কিনল।
মালদ্বীপ থেকে বাংলায় এসে প্রথমে সুদকাওয়ান(চট্টগ্রাম)শহরে পৌঁছলাম।এটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত এক বিশাল বন্দর নগরী।বাংলার শাসনকর্তা সুলতান ফখরুদ্দীন(১৩৩৮-১৩৪৯ সাল)।তাঁর উপাধি ফকরা। তাঁর সাথে দিল্লীর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সম্পর্ক ভাল ছিল না।
(দিল্লীর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৫ - ১৩৫১ সাল)
আমার ইচ্ছা ছিল বাংলার বিশিষ্ট ওলিআল্লাহ শেখ জালাল তাবরেজী (রহ)-(শাহ জালাল )(রহ)এর সাথে দেখা করা।তিনি কামরূপ অঞ্চলে (সিলেট)বসবাস করেন।কামরূপ পাহাড়ি এলাকা।কস্তুরী মৃগের জন্য বিখ্যাত ।এখানকার অধিবাসীরা তুর্কী উপজাতীয়। এরা অত্যন্ত পরিশ্রমী।বলা হয়-এদের এক গোলাম অন্যান্য এলাকার কয়েক গোলামের সমান।এখানকার লোকজনের সাথে যাদু বিদ্যারও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।

Saturday, August 29, 2015

বাংলাদেশে ইবনে বতুতা


ইবনে বতুতার রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক ভ্রমণ কাহিনী
ইবনে বতুতা(১৩০৪-১৩৬৯)

  মালদ্বীপ থেকে রওয়ানা হয়ে ৪৩ রাত সাগরে পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসে পৌঁছলাম।বাংলাদেশটা বিশাল ।এদেশে প্রচুর চাল উতপন্ন হয়।এদেশে জিনিসপত্র এত সস্তা যে,পৃথিবীর অন্য কোথাও আমি দেখিনি।তবে এদেশের মানুষ অত্যাচারিত এবং এখানকার পরিস্থিতি উদ্বেগ জনক।খোরাসানিরা এদেশ সম্পর্কে বলে,
‘দোজকপুর আজ নেয়ামত `
-অর্থাত প্রাচুর্যে পরিপূর্ণ এক দোজক।
(বাংলাদেশের প্রচীন মানচিত্র ১২২৭-১৭৫৭ সাল)
বাংলাদেশের বাজারে পাঁচ রতল(দিল্লির মাপে)চাল বিক্রী হয় এক রূপার দিনারে।তারপরেও লোকজন বলছে এ বছর দাম বেশী।এক রূপার দিনার আট দিরহামের সমান । এখানকার দিরহাম আমাদের (মরক্কোর)দিরহামের সমমানের।দিল্লীর এক রতল মরক্কোর দশ রতলের সমান।
মোহাম্মদ মাসমুদি মাগরেবী নামে এক ব্যাক্ত বাংলাদেশে বসবাস করেন দিল্লীতে তিনি মারা যান।তিনি আমাকে বলেছিলেন,বাংলাদেশে এক স্ত্রী ও এক খাদেমকে নিয়ে থাকতেন।মাত্র আট দিরহামে তাদের তিনজনের বছরের খরচ মিটে যেত।তিনি আট দিরহাম দিয়ে আশি রতল(দিল্লীর মাপ)ধান কিনতেন। সেগুলো ভাঙিয়ে চাল পেতেন পঞ্চাশ রতল ।যা ছিল দশ কুইন্টালের সমান।(১০০ কেজিতে ১ কুইন্টাল)।
বাংলাদেশে আমি নিজে দেখেছি একটি দুধেল গাভী তিন রূপার দিনারে বিক্রী হচ্ছে।
(রূপার কয়েন-১৩৩৩-১৩৫৯ সাল)
এ ছাড়া এক দিরহামে আটটি মোটা তাজা মোরগ,এক দিরহামে পনেরটি কবুতরের বাচ্চা,দৃই দিরহামে একটি মোটা তাজা খাসি ও এছাড়া চার দিরহামে এক রতল চিনি,আট দিরহামে এক রতল সরবত,চার দিরহামে এক রতল তেল এবং দুই দিরহামে এক রতল তিসির তেল বিক্রী হতে দেখেছি ।
(সুলতান ফখরুদ্দীন আমলের সোনার কয়েন ১৩৩৮-১৩৪৯ সাল)

চিকন সুতায় বোনা তিরিশ জেরার (হাত)এক থান কাপড় বিক্রী হয় দুই দিনারে ।
বাংলাদেশে দাস দাসী বিক্রী হয়।এক স্বর্ণ দিনারে অল্প বয়েসী সুন্দরী এক দাসী বিছানা সহ কিনতে পাওয়া যায়।এখানকার এক সোনার দিনার মরক্কোর আড়াই স্বর্ণ দিনারের সমান ।আমি প্রায় এরকম দামেই অশুরা নামের অত্যন্ত সুন্দরী এক অল্প বয়েসী দাসী কিনেছিলাম।আমার এক সাথী দুই স্বর্ণ দিনার দিয়ে লুলু নামের অল্প বয়েসী এক চাকর কিনল।
মালদ্বীপ থেকে বাংলায় এসে প্রথমে সুদকাওয়ান(চট্টগ্রাম)শহরে পৌঁছলাম।এটি সমুদ্রতীরে অবস্থিত এক বিশাল বন্দর নগরী।বাংলার শাসনকর্তা সুলতান ফখরুদ্দীন(১৩৩৮-১৩৪৯ সাল)।তাঁর উপাধি ফকরা। তাঁর সাথে দিল্লীর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলকের সম্পর্ক ভাল ছিল না।
(দিল্লীর সুলতান মুহাম্মদ বিন তুঘলক ১৩২৫ - ১৩৫১ সাল)
আমার ইচ্ছা ছিল বাংলার বিশিষ্ট ওলিআল্লাহ শেখ জালাল তাবরেজী (রহ)-(শাহ জালাল )(রহ)এর সাথে দেখা করা।তিনি কামরূপ অঞ্চলে (সিলেট)বসবাস করেন।কামরূপ পাহাড়ি এলাকা।কস্তুরী মৃগের জন্য বিখ্যাত ।এখানকার অধিবাসীরা তুর্কী উপজাতীয়। এরা অত্যন্ত পরিশ্রমী।বলা হয়-এদের এক গোলাম অন্যান্য এলাকার কয়েক গোলামের সমান।এখানকার লোকজনের সাথে যাদু বিদ্যারও ব্যাপক প্রচলন রয়েছে।