Saturday, August 15, 2015

ছোট গল্প “বউ ভাগ্য''



ছোট প্রাণ ছোট ব্যাথা,
ছোট ছোট দুঃখ কথা,
নিতান্তই সহজ সরল।
সহস্র বিস্রিত রাশি,
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি,
তার- দু-চারটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা,
ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে,
শেষ হইয়াও হইল-না শেষ।।
…………
বউ ভাগ্য !
...............
মি: আরিয়ান মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ন সেকশনের দায়িত্বে ছিলেন তার বেতন ছাড়াও উপরি আয় ভাল ছিল। সমাজে কেতা দূরস্ত ভাবে চলা ফেরায় তার কোন সমস্যা হতো না।একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে মি: আরিয়ান মিস মিথিলাকে দেখতে পান।মিস মিথিলা দেখতে খুব সুন্দরী,স্মার্ট, লাস্যময়ী ,মিস মিথিলাকে দেখে মি: আরিয়ান মুগ্ধ হয়ে গেলেন।অনুষ্ঠানে মিস মিথিলা ছিল সকলের মধ্যমণি, তিনি সকলের নজর কেড়েছিলেন সবাই তার রূপের প্রশংসা করছিলেন।তাকে দেখতে অভিজাত শ্রেনীর ললনা বলে মনে হচ্ছিল
মি: আরিয়ান সুন্দরী মিথিলাকে বিয়ের অভিপ্রায় প্রকাশ করলেন।সবাই বললো মি: আরিয়ানের সাথে মিস মিথিলার বিয়ে হলে,সুন্দর মানাবে, তারা সুখী হবেন।
মহা ধূমধামের সাথে মি: আরিয়ানের সাথে মিস মিখিলার বিয়ে হয়ে গেল।বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক নামীদামী লোকজন উপস্থিত ছিলেন সবাই মিথিলার রূপের প্রশংসা করলেন।আমন্ত্রীত গণ্যমান্য অতিথিগণ মি: আরিয়ানের বউ ভাগ্যের তারিফ করলেন

বিয়ের পর মি: আরিয়ানের দিনগুলো স্বপ্নময় হয়ে উঠলো।বউকে তিনি খুব ভালবাসতে শুরু করলেনবউও যেমন সুন্দরী অস্পরী ছিলেন ,তেমনি সুবচনা,মোহনীয় সাংসারিক কাজে লক্ষী ছিলেন
এমনকি অফিসের বড় কর্তাও মি: আরিয়ানের বউ এর রূপের প্রসংসা করতেন।এতে মি: আরিয়ান বউ ভাগ্য নিয়ে মনে মনে গর্ব বোধ করতেন।কিছু দিনের মধ্যে মি: আরিয়ান পদোন্নতি লাভ করেন।এটাও মি: আরিয়ান বউ ভাগ্য বলে ধরে নিলেন।
বউ এর প্রতি মি: আরিয়ানের ভালবাসা আরো গভীর হতে লাগলো মি: আরিয়ানের মনে হলো তাদের দিন গুলো খুব সুখের মধ্যে একটু বেশী বিলাসিতার মধ্যে যাচ্ছে, কিন্তু অর্থের কোন সমস্যা হচ্ছে না।এজন্য তিনি বউ ভাগ্যে ভাগ্যবান বলে মনে করলেন।
তাদের সুখী জীবন আনন্দের সাথে অতিবাহিত হতে লাগলো।মি: আরিয়ান তার বউ মিসেস মিথিলার সবকিছুই পছন্দ করতেন,ভালবাসতেন শুধু দুটি জিনিস বাদে।তার একটি হলো বউয়ের গহনার প্রতি অতি দুর্বলতা আর থিয়েটার দেখা থিয়েটারের ব্যাপারে মি: আরিয়ানের কোন আগ্রহ ছিল না। অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় আসলে মিসেস মিথিলা তার সংগে থিয়েটারে যাবার জন্য জোরাজুরি করতেনপ্রেমময়ী স্ত্রীর আবদার মি: আরিয়ান ফেলে দিতে পারেননি ,কয়েকবার গিয়েছেনও। পরে ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে থিয়েটার দেখার পাঠ চুকে দিলেন।স্ত্রী থিয়েটার দেখা পছন্দ করেন তাই ভালবাসার টানে মিসেস মিথিলাকে তার বান্ধবী মিজ উর্মীলার সাথে যাবার অনুমতি দিলেন।
একদিন মি: আরিয়ান অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন মিসেস মিথিলার গলায় একটি মোক্তার মালা কানে হীরের দোল, হাতে হীরে বসানো সোনার ব্রেসলেটে, অপূর্ব সাজে স্ত্রীকে একটি হীরক খচিত চিরুনী দিয়ে তার সুন্দর চুল আচড়াতে দেখলেন তিনি থমকে গেলেন , ওই সমস্ত দামী অলংকার তার পক্ষে কিনে দেয়া সম্ভব ছিল না পরক্ষনেই ভাবলেন তার স্ত্রীর অলংকারের প্রতি দুর্বলতা বেশী, তাই নকল অলংকার পরে স্বাধ মিটাচ্ছেন।একথা ভেবে নিজের অক্ষমতার জন্য করুনা হলো আর স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালবাসার টান বৃদ্ধি পেল।মিসেস মিথিলা নিজের গলা হতে নকল মুক্তার মালা মি: আরিয়ানের গলায় পড়িয়ে দিলেন জড়িয়ে ধরলেন।মি: আরিয়ান বউয়ের প্রেমের সুখ সাগরে ভেসে যেতে লাগলেন।এদিকে মিসেস মিথিলার নকল গহণার পরিমান বাড়তে লাগল গহণাগুলো নকল হলেও দেখতে একদম আসলের মতো নিখুত ও সুন্দর ছিল মি: আরিয়ান বউয়ের পছন্দের তারিফ করতেন তখন মিসেস মিথিলা বলতেন আমি গহণার প্রতি একটু দুর্বল  একথা বলে মি: আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরতেন তাদের দিনগুলো ছিল মধুময় কখনো সখনো তারা চাঁদনী রাতে বেলকনিতে বসে খুশ গল্পে রাতের প্রহর গুলো পার করে দিতেন
একদা কোন এক শীতের সন্ধ্যায় ,সেদিন বাতাশের আদ্রতা বেশী ছিল।মি: আরিয়ানের বারণ স্বত্ত্বেও মিসেস মিথিলা সেজেগুজে থিয়েটার দেখতে বের হলেন।প্রচন্ড ঠান্ডা লাগিয়ে ফিরলেন রাত ১১টায়।তিনি ক্রমাগত কাশতে ছিলেন আর গায়ে খুব জ্বর ছিল মি: আরিয়ান ডাক্তার কল করে মিসেস মিথিলার প্রয়োজনীয় চিকৎসা করালেন কিন্তু স্ত্রী ক্রমশ দূর্বল হয়ে পরলেন । সাত দিন অসুখে ভোগে মি: আরিয়ানকে দু:খের সাগরে ভাসিয়ে মিসেস মিথিলা মারা গেলেন
প্রিয়তমা স্ত্রী মারা যাবার পর মি: আরিয়ান ভেঙ্গে পড়লেন।তিনি বউকে বড্ড বেশী ভালবাসতেন প্রিয়তমা স্ত্রীর অভাব বোধ জীবনের প্রতি তিনি উদাসীন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লেন।তিনি চাকুরী ছেড়ে দিলেন এক পর্যায়ে তিনি কপর্দক শূন্য হয়ে গেলেন।তার দিন যাপন করার মতো অবশিষ্ট কোন অর্থ ছিল না।তিনি স্ত্রীর নকল গহনার বাক্স খুললেন সেখান থেকে একটি হীরের হার হাতে নিলেন।ভাবলেন এটা বিক্রী করে অন্তত পাঁচ ,ছয় শত টাকা পাবেন। এই টাকায় অন্তত আজকের দিনটা চালানো যাবে।

তিনি একটি জুয়েলারীর দোকানে গেলেন জুয়েলারীর মালিক গহনাটি আতশী কাঁচ দিয়ে ভাল করে পরখ করলেন, ওজন নিলেন নিশ্চিত হলেন যে গহনাটি প্রকৃতই আসল বললেন দেখুন এর জন্য আমি আপনাকে দশ লক্ষ টাকা দিতে পারি মি:আরিয়ান হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি গহনাটি ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন ভাবলেন জহুরী আসল নকল চিনতে পারেননি নকল গহনার এতো দাম কি করে হয়!আবার ভাবলেন টাকার প্রয়োজন, গহনাটি দিয়ে টাকাটা নিয়ে নিলেও হতো।মি: আরিয়ান গহনাটি যাচাই করার জন্য অপর একটি অভিজাত জুয়েলারী দোকানে গেলেন। জুয়েলারীর মালিক মি:আরিয়ানকে পূর্ব থেকে চিনতেন গহনাটি দেখে তিনি চিনেতে পারলেন। বললেন, এই গহনাটি আমার দোকানের রেজিষ্টার খাতা দেখে বললেন ,
‘এটি মিসেস মিথিলা নামক এক ভদ্রমহিলা বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন তিনি তার সারা জীবনের উপর্জন দিয়ে আমার দোকান থেকে আরো অনেক গহনা কিনেছিলেন আপনি যদি গহনাটির বৈধ মালিক হন তবে গহনাটির জন্য আপনাকে আঠার লক্ষ টাকা দিতে পারি ।’
মি: আরিয়ান বললেন,
‘উনি আমার ন্ত্রী ছিলেন,উনি কয়েক মাস আগে মারা গেছেন।’
মি: আরিয়ান গহনাটি দোকানে রেখে একটি রিসিট নিলেন।রাস্তা ধরে হাটতে লাগলেন , ভাবতে লাগলেন..এতো টাকার গহনা কিনার টাকা মিথিলা পেল কোথায়।তার মনে সন্দেহ হলো,তবে কি প্রয়াত স্ত্রী মিথিলার অন্য কারো সঙ্গে  কোন সম্পর্ক ছিল ? কিছুক্ষনের মধ্যে মি: আবুলের সন্দেহের ভাবনা বিশ্বাসে রূপান্তরিত হলো্ তিনি তা সইতে পারলেন না, তার মনে হলো গাছ পালা সব ঘুরছে,তিনি জ্ঞান হাড়িয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন।
জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখলেন তিনি সরকারী হাসপাতালের বেডে শায়িত ডাক্তার বললেন রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন লোক হাসপাতালে রেখে গেছেন , তিনি এখন সুস্থ্য,চাইলে বাড়ী যেতে পারবেন।
তিনি বাসায় গেলেন,স্ত্রীর অলংকারের বাক্স খুললেন,সেখানে অনেক হীরা মুক্তা মণির দামী দামী গহনায় ঠাসা ছিল।তিনি গভীর দু:খে কাঁদলেন।
সন্ধায় জুয়েলারী দোকানে গিয়ে মি: বললেন, এই গহনাটির মালিক ছিল আমার স্ত্রী মিসেস মিথিলা,তিনি মারা গেছেন এখন আমি এর মালিক ,এরকম আরো গহনা আছে গহনা গুলো কিনতে চাইলে তিনি সেগুলি বিক্রী করবেন আইনগত বাধা না থাকায় জুয়েলার্সের মালিক গহনাগুলো কিনতে রাজী হলেন।
মৃত স্ত্রীর সমস্ত গহনা বিক্রী করে মি: আরিয়ান সাড়ে তিন কোটি টাকা পেলেন !!
এক বছর পর তিনি সুন্দরী মিস নার্গিসকে বিয়ে করলেন নতুন বউ নার্গিস এর রূপ মৃত স্ত্রী মিথিলার চেয়ে কম ছিল না
কিন্তু তিনি সুখী হতে পারলেন না

Saturday, August 15, 2015

ছোট গল্প “বউ ভাগ্য''



ছোট প্রাণ ছোট ব্যাথা,
ছোট ছোট দুঃখ কথা,
নিতান্তই সহজ সরল।
সহস্র বিস্রিত রাশি,
প্রত্যহ যেতেছে ভাসি,
তার- দু-চারটি অশ্রুজল।
নাহি বর্ণনার ছটা,
ঘটনার ঘনঘটা,
নাহি তত্ব, নাহি উপদেশ।
অন্তরে অতৃপ্তি রবে,
সাঙ্গ করি মনে হবে,
শেষ হইয়াও হইল-না শেষ।।
…………
বউ ভাগ্য !
...............
মি: আরিয়ান মন্ত্রনালয়ের গুরুত্বপূর্ন সেকশনের দায়িত্বে ছিলেন তার বেতন ছাড়াও উপরি আয় ভাল ছিল। সমাজে কেতা দূরস্ত ভাবে চলা ফেরায় তার কোন সমস্যা হতো না।একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে মি: আরিয়ান মিস মিথিলাকে দেখতে পান।মিস মিথিলা দেখতে খুব সুন্দরী,স্মার্ট, লাস্যময়ী ,মিস মিথিলাকে দেখে মি: আরিয়ান মুগ্ধ হয়ে গেলেন।অনুষ্ঠানে মিস মিথিলা ছিল সকলের মধ্যমণি, তিনি সকলের নজর কেড়েছিলেন সবাই তার রূপের প্রশংসা করছিলেন।তাকে দেখতে অভিজাত শ্রেনীর ললনা বলে মনে হচ্ছিল
মি: আরিয়ান সুন্দরী মিথিলাকে বিয়ের অভিপ্রায় প্রকাশ করলেন।সবাই বললো মি: আরিয়ানের সাথে মিস মিথিলার বিয়ে হলে,সুন্দর মানাবে, তারা সুখী হবেন।
মহা ধূমধামের সাথে মি: আরিয়ানের সাথে মিস মিখিলার বিয়ে হয়ে গেল।বিয়ের অনুষ্ঠানে অনেক নামীদামী লোকজন উপস্থিত ছিলেন সবাই মিথিলার রূপের প্রশংসা করলেন।আমন্ত্রীত গণ্যমান্য অতিথিগণ মি: আরিয়ানের বউ ভাগ্যের তারিফ করলেন

বিয়ের পর মি: আরিয়ানের দিনগুলো স্বপ্নময় হয়ে উঠলো।বউকে তিনি খুব ভালবাসতে শুরু করলেনবউও যেমন সুন্দরী অস্পরী ছিলেন ,তেমনি সুবচনা,মোহনীয় সাংসারিক কাজে লক্ষী ছিলেন
এমনকি অফিসের বড় কর্তাও মি: আরিয়ানের বউ এর রূপের প্রসংসা করতেন।এতে মি: আরিয়ান বউ ভাগ্য নিয়ে মনে মনে গর্ব বোধ করতেন।কিছু দিনের মধ্যে মি: আরিয়ান পদোন্নতি লাভ করেন।এটাও মি: আরিয়ান বউ ভাগ্য বলে ধরে নিলেন।
বউ এর প্রতি মি: আরিয়ানের ভালবাসা আরো গভীর হতে লাগলো মি: আরিয়ানের মনে হলো তাদের দিন গুলো খুব সুখের মধ্যে একটু বেশী বিলাসিতার মধ্যে যাচ্ছে, কিন্তু অর্থের কোন সমস্যা হচ্ছে না।এজন্য তিনি বউ ভাগ্যে ভাগ্যবান বলে মনে করলেন।
তাদের সুখী জীবন আনন্দের সাথে অতিবাহিত হতে লাগলো।মি: আরিয়ান তার বউ মিসেস মিথিলার সবকিছুই পছন্দ করতেন,ভালবাসতেন শুধু দুটি জিনিস বাদে।তার একটি হলো বউয়ের গহনার প্রতি অতি দুর্বলতা আর থিয়েটার দেখা থিয়েটারের ব্যাপারে মি: আরিয়ানের কোন আগ্রহ ছিল না। অফিস শেষে ক্লান্ত হয়ে বাসায় আসলে মিসেস মিথিলা তার সংগে থিয়েটারে যাবার জন্য জোরাজুরি করতেনপ্রেমময়ী স্ত্রীর আবদার মি: আরিয়ান ফেলে দিতে পারেননি ,কয়েকবার গিয়েছেনও। পরে ক্লান্ত বিরক্ত হয়ে থিয়েটার দেখার পাঠ চুকে দিলেন।স্ত্রী থিয়েটার দেখা পছন্দ করেন তাই ভালবাসার টানে মিসেস মিথিলাকে তার বান্ধবী মিজ উর্মীলার সাথে যাবার অনুমতি দিলেন।
একদিন মি: আরিয়ান অফিস থেকে ফিরে এসে দেখলেন মিসেস মিথিলার গলায় একটি মোক্তার মালা কানে হীরের দোল, হাতে হীরে বসানো সোনার ব্রেসলেটে, অপূর্ব সাজে স্ত্রীকে একটি হীরক খচিত চিরুনী দিয়ে তার সুন্দর চুল আচড়াতে দেখলেন তিনি থমকে গেলেন , ওই সমস্ত দামী অলংকার তার পক্ষে কিনে দেয়া সম্ভব ছিল না পরক্ষনেই ভাবলেন তার স্ত্রীর অলংকারের প্রতি দুর্বলতা বেশী, তাই নকল অলংকার পরে স্বাধ মিটাচ্ছেন।একথা ভেবে নিজের অক্ষমতার জন্য করুনা হলো আর স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালবাসার টান বৃদ্ধি পেল।মিসেস মিথিলা নিজের গলা হতে নকল মুক্তার মালা মি: আরিয়ানের গলায় পড়িয়ে দিলেন জড়িয়ে ধরলেন।মি: আরিয়ান বউয়ের প্রেমের সুখ সাগরে ভেসে যেতে লাগলেন।এদিকে মিসেস মিথিলার নকল গহণার পরিমান বাড়তে লাগল গহণাগুলো নকল হলেও দেখতে একদম আসলের মতো নিখুত ও সুন্দর ছিল মি: আরিয়ান বউয়ের পছন্দের তারিফ করতেন তখন মিসেস মিথিলা বলতেন আমি গহণার প্রতি একটু দুর্বল  একথা বলে মি: আরিয়ানকে জড়িয়ে ধরতেন তাদের দিনগুলো ছিল মধুময় কখনো সখনো তারা চাঁদনী রাতে বেলকনিতে বসে খুশ গল্পে রাতের প্রহর গুলো পার করে দিতেন
একদা কোন এক শীতের সন্ধ্যায় ,সেদিন বাতাশের আদ্রতা বেশী ছিল।মি: আরিয়ানের বারণ স্বত্ত্বেও মিসেস মিথিলা সেজেগুজে থিয়েটার দেখতে বের হলেন।প্রচন্ড ঠান্ডা লাগিয়ে ফিরলেন রাত ১১টায়।তিনি ক্রমাগত কাশতে ছিলেন আর গায়ে খুব জ্বর ছিল মি: আরিয়ান ডাক্তার কল করে মিসেস মিথিলার প্রয়োজনীয় চিকৎসা করালেন কিন্তু স্ত্রী ক্রমশ দূর্বল হয়ে পরলেন । সাত দিন অসুখে ভোগে মি: আরিয়ানকে দু:খের সাগরে ভাসিয়ে মিসেস মিথিলা মারা গেলেন
প্রিয়তমা স্ত্রী মারা যাবার পর মি: আরিয়ান ভেঙ্গে পড়লেন।তিনি বউকে বড্ড বেশী ভালবাসতেন প্রিয়তমা স্ত্রীর অভাব বোধ জীবনের প্রতি তিনি উদাসীন বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়লেন।তিনি চাকুরী ছেড়ে দিলেন এক পর্যায়ে তিনি কপর্দক শূন্য হয়ে গেলেন।তার দিন যাপন করার মতো অবশিষ্ট কোন অর্থ ছিল না।তিনি স্ত্রীর নকল গহনার বাক্স খুললেন সেখান থেকে একটি হীরের হার হাতে নিলেন।ভাবলেন এটা বিক্রী করে অন্তত পাঁচ ,ছয় শত টাকা পাবেন। এই টাকায় অন্তত আজকের দিনটা চালানো যাবে।

তিনি একটি জুয়েলারীর দোকানে গেলেন জুয়েলারীর মালিক গহনাটি আতশী কাঁচ দিয়ে ভাল করে পরখ করলেন, ওজন নিলেন নিশ্চিত হলেন যে গহনাটি প্রকৃতই আসল বললেন দেখুন এর জন্য আমি আপনাকে দশ লক্ষ টাকা দিতে পারি মি:আরিয়ান হতভম্ব হয়ে গেলেন তিনি গহনাটি ফিরিয়ে নিয়ে আসলেন ভাবলেন জহুরী আসল নকল চিনতে পারেননি নকল গহনার এতো দাম কি করে হয়!আবার ভাবলেন টাকার প্রয়োজন, গহনাটি দিয়ে টাকাটা নিয়ে নিলেও হতো।মি: আরিয়ান গহনাটি যাচাই করার জন্য অপর একটি অভিজাত জুয়েলারী দোকানে গেলেন। জুয়েলারীর মালিক মি:আরিয়ানকে পূর্ব থেকে চিনতেন গহনাটি দেখে তিনি চিনেতে পারলেন। বললেন, এই গহনাটি আমার দোকানের রেজিষ্টার খাতা দেখে বললেন ,
‘এটি মিসেস মিথিলা নামক এক ভদ্রমহিলা বিশ লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেছিলেন তিনি তার সারা জীবনের উপর্জন দিয়ে আমার দোকান থেকে আরো অনেক গহনা কিনেছিলেন আপনি যদি গহনাটির বৈধ মালিক হন তবে গহনাটির জন্য আপনাকে আঠার লক্ষ টাকা দিতে পারি ।’
মি: আরিয়ান বললেন,
‘উনি আমার ন্ত্রী ছিলেন,উনি কয়েক মাস আগে মারা গেছেন।’
মি: আরিয়ান গহনাটি দোকানে রেখে একটি রিসিট নিলেন।রাস্তা ধরে হাটতে লাগলেন , ভাবতে লাগলেন..এতো টাকার গহনা কিনার টাকা মিথিলা পেল কোথায়।তার মনে সন্দেহ হলো,তবে কি প্রয়াত স্ত্রী মিথিলার অন্য কারো সঙ্গে  কোন সম্পর্ক ছিল ? কিছুক্ষনের মধ্যে মি: আবুলের সন্দেহের ভাবনা বিশ্বাসে রূপান্তরিত হলো্ তিনি তা সইতে পারলেন না, তার মনে হলো গাছ পালা সব ঘুরছে,তিনি জ্ঞান হাড়িয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেন।
জ্ঞান ফিরে পেয়ে দেখলেন তিনি সরকারী হাসপাতালের বেডে শায়িত ডাক্তার বললেন রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে কয়েকজন লোক হাসপাতালে রেখে গেছেন , তিনি এখন সুস্থ্য,চাইলে বাড়ী যেতে পারবেন।
তিনি বাসায় গেলেন,স্ত্রীর অলংকারের বাক্স খুললেন,সেখানে অনেক হীরা মুক্তা মণির দামী দামী গহনায় ঠাসা ছিল।তিনি গভীর দু:খে কাঁদলেন।
সন্ধায় জুয়েলারী দোকানে গিয়ে মি: বললেন, এই গহনাটির মালিক ছিল আমার স্ত্রী মিসেস মিথিলা,তিনি মারা গেছেন এখন আমি এর মালিক ,এরকম আরো গহনা আছে গহনা গুলো কিনতে চাইলে তিনি সেগুলি বিক্রী করবেন আইনগত বাধা না থাকায় জুয়েলার্সের মালিক গহনাগুলো কিনতে রাজী হলেন।
মৃত স্ত্রীর সমস্ত গহনা বিক্রী করে মি: আরিয়ান সাড়ে তিন কোটি টাকা পেলেন !!
এক বছর পর তিনি সুন্দরী মিস নার্গিসকে বিয়ে করলেন নতুন বউ নার্গিস এর রূপ মৃত স্ত্রী মিথিলার চেয়ে কম ছিল না
কিন্তু তিনি সুখী হতে পারলেন না